বাংলাদেশঅন্যান্য

মহান বিজয় দিবস; বাঙালি চেতনার মুক্তির দিন

বাঙালি চেতনার মুক্তির দিন, গৌরবময় বিজয় দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে পাকহানাদার বাহিনী। চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নেয় বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। বাঙালি জাতির হাজার বছরের বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন এটি। একই সঙ্গে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের দিন।

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঝড়ে যায় লাখো প্রাণ।  মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর মিলিত আক্রমণে পর্যুদস্ত হয় পাকবাহিনী। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ জেনারেল নিয়াজির কাছে এক বার্তা পাঠিয়ে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেন ইয়াহিয়া খান।  এরই মধ্যে পরাজয় নিশ্চিত জেনে, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে পাক সেনারা।

১৬ই ডিসেম্বর ভোর পাঁচটা থেকে নিয়াজির নির্দেশে পাক বাহিনীর যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে পাকিস্তানি ইস্টার্ন কমান্ডের হেডকোয়ার্টারে মিত্রবাহিনীর মেজর জেনারেল জ্যাকব আর নিয়াজির মধ্যে আত্মসমর্পণ চুক্তি নিয়ে চলে দর কষাকষি। ঘন্টাখানেকের মধ্যেই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেজগাঁও বিমানবন্দরে এসে নামেন মিত্রবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।  এ সময় জেনারেল নিয়াজী তাকে অভ্যর্থনা জানান।

পরে তারা পৌঁছান বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান- ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে। জেনারেল অরোরা ও নিয়াজী এগিয়ে যান সেখানে আগে থেকেই সাজিয়ে রাখা টেবিলের দিকে।  বিকেল সাড়ে চারটায় এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। নিঃশর্ত পরাজয় মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণ দলিলে সই করেন পাকিস্তানের পক্ষে জেনারেল নিয়াজী এবং মিত্রবাহিনীর পক্ষে জেনারেল অরোরা।

একই সঙ্গে আত্মসমর্পণ করে প্রায় ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনা। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়, বাংলাদেশের বিজয়।  পৃথিবীর বুকে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের। বাঙালি পায় তার দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত স্বাধীনতা; গর্বিত বুকে উঁচিয়ে ধরে লাল-সবুজের পতাকা।

আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি, ঢাকা

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button