দেশবাংলা

আজও স্বীকৃতি মেলেনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষক শহীদ তালেবের

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও স্বীকৃতি মেলেনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষক শেরপুরের শহীদ আবু তালেবের। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাইফেল ও কামানের মত ভারী অস্ত্র বানানোর কারণে পাকিস্তানীদের হাতে প্রাণ দিতে হয় এ বীর সেনানীকে। এরপর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটে নাম থাকলেও, সরকারি কোন সুবিধা পাচ্ছে না তার ভূমিহীন পরিবার।

শেরপুরের নবীনচরের আবু তালেব। চাকরি করতেন পাকিস্তানি মিলিটারীতে। ১৯৭১ সালে পালিয়ে এসে এলাকায় চালু করেন ছোট ওয়ার্কশপ। সেখানে তৈরি করেন, কামানের মত ভারী অস্ত্র। একই সঙ্গে, এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে রাইফেল চালানো, গ্রেনেড ছোঁড়াসহ শত্রুপক্ষ থেকে আত্মরক্ষার নানা কৌশলেও পারদর্শী করে তোলেন।

সকাল-বিকেল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের বিষয় জানতে পেরে একদিন ভোরে আবু তালেবকে ধরে নিয়ে যায় পাকবাহিনী। ভয়াবহ নির্যাতনের পর কাঁটখালী ব্রিজে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে এই প্রশিক্ষককে। এরপর থেকেই খুব কষ্টে দিন কাটে দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও স্ত্রীসহ পাঁচ সদস্যের পরিবারটির। বড় ছেলে ইদ্রিস আলী থানায় মরদেহ টানার কাজ করলেও, রোগে শোকে এখন আর চলতে পারেন না।

দারিদ্রের কষাঘাতে এখন দু’বেলা দু’মুঠো ভাতও জোটে না পরিবারটির। অথচ শহরের চার রাস্তার মোড়ে সরকারি খরচে তৈরি করা হয়েছে শহীদ আবু তালেব স্মৃতিস্তম্ভ ও শহীদ আবু তালেব পাঠাগার। সবকিছু থাকার পরও এ পরিবারটি সরকারি কোন সুযোগসুবিধা না পাওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী।

এদিকে, শহীদ আবু তালেবের সকল কাগজপত্র নিয়ে আবেদন করলে উর্দ্ধতন মহলে জানিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আর শহীদ তালেবের পরিবারের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি চাইলেন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরো।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটেও রয়েছে শহীদ আবু তালেবের নাম। শেরপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার তালিকাতেও তিন নম্বরে রয়েছে তার নাম।  নাম রয়েছে লাল বইয়ের মুক্তিবার্তায়ও।

নাঈম ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button