fbpx
দেশবাংলাসরকার

স্বাধীনতার ৫০ বছর পর বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাচ্ছেন নরসিংদীর বেদনা দত্ত

মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে,প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠনিকভাবে বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে,নরসিংদীর বেদনা দত্তকে।১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতনের শিকার হন,অসংখ্য নারী-পুরুষ।তাদের মধ্যে একজন বেদনা দত্ত।যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সাহায্য করেছেন তিনি।ফলে,পাকিস্তানীদের নিষ্ঠুর থাবার শিকার হতে হয়তাকে।স্বীকৃতি পেয়ে খুশি বেদনা দত্তসহ স্থানীয়রা।

স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে শহীদ হয়েছেন,৩০ লাখ বীর বাঙ্গালী।সম্ভ্রম হারিয়েছেন ৩ লাখেরও বেশী মা-বোন।তার মধ্যে একজন ,নরসিংদীর বেদনা দত্ত।যুদ্ধে মুক্তিসেনাদের রান্না করে খাওয়ানোসহ, নানাভাবে সহায়তা করতেন তিনি।ঘরে অবুঝ তিনটি শিশু সন্তান নিয়ে আতঙ্কে কাটতো তার দিন।জিনারদী বরিবাড়ি রেল ব্রিজের নীচে ছিলো,পাকিস্তানীদের ক্যাম্প।স্থানীয় রাজাকারদের নজর পড়ে বিধবা নারী বেদনা দত্তের ওপর।

নরপশুরা তাকে ৩দিন ক্যাম্পে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের পর,মৃতভেবে জঙ্গলে ফেলে দেয়।পরে কৌশলে বাড়ি ফিরে, গ্রাম্য চিকিৎসকের সহায়তায় কিছুটা সুস্থ্য হলেও, অবহেলা,বঞ্চনায় সন্তানদের নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।দীর্ঘদিন পর নিজ বাড়িতে ফিরলেও,বীরাঙ্গনার মেয়ে বলে বিয়ে দিতে পারেননি,মেয়ে জোসনাকে।অন্যের বাড়িতে কাজ করে আর ভিজিডি চালই তাদের বেচে থাকার ভরসা।বেদনার আবেদনের প্রেক্ষিতে,স্থানীয় প্রশাসনের সুপারিশক্রমে,সরকারীভাবে গ্যাজেটভূক্ত হন।এবার বিজয় দিবসে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরঙ্গনা স্বীকৃতি দেয়া হবে।দীর্ঘ ৫০বছর পর স্বীকৃতি পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানান,বেদনা দত্তের পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধারা।

বেদনা দত্তকে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি দিতে পেরে গর্ববোধ করে স্থানীয় প্রশাসন। বেদনা দত্তের মতো আরো যেসব মুক্তিযোদ্ধা ও বিরাঙ্গনা রয়েছেন,তাদের খুঁজে বের করে স্বীকৃতি দেয়ার দাবী স্থানীয়দের।

ডেস্ক রিপোর্ট/বাংলা টিভি/ এস

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button