দেশবাংলা

বিজয়ের ৫০ বছরেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সতীশ চন্দ্র বর্মণের পরিবারের

স্বাধীনতার পঞ্চাশে বাংলাদেশ। শতভাগ শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাচাই তালিকায় বাকি রয়েছে অনেকের। রংপুরের দুই পরিবার দীর্ঘ দিনেও স্বীকৃতি না পেয়ে এখনো ঘুড়ছেন দ্বারে দ্বারে। আর সচেতন মহল বলছেন, বিজয়ের ৫০ বছরেও বাদ পরাদের তালিকা দ্রুত প্রনয়ন করা এখন সময়ের ব্যাপার। আর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বলছেন,পরিবারগুলো যোগাযোগ করলে সহযোগিতা করা হবে।

বিজয়ের ৫০ বছরেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সতীশ চন্দ্র বর্মণের পরিবারের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তরিক সমবেদনা পত্রসহ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের দুই হাজার টাকার একটি চেক পাঠালেও অদ্যাবধি সতীশ চন্দ্র বর্মণকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় তালিকাভুক্ত করা হয়নি। এমনকি ২০০০ সালে রংপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকাশিত রংপুর জেলার ইতিহাস গ্রন্থে পীরগাছা উপজেলায় শহীদদের তালিকায়ও তাঁর স্থান হয়নি।

৭১ এ দুই ছেলে বিজয় কুমার বর্মণ এবং বিনয়  মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রশিক্ষণ নিতে ভারতে যাওয়ায়, ১৪ আগস্ট রাতে পাক বাহিনী স্থানীয় রাজাকাদের সহায়তায় সতীশ চন্দ্র বর্মণকে তাঁর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন ১৫ আগস্ট সকালে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে বুলেটবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে,রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের ছড়ানে পুলিন চন্দ্র বর্মন স্বাধীনতা যুদ্ধে মৃত্যু বরণ করেছেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লাল মুক্তিবার্তায়  নাম রয়েছে তার। ২০০৫ সালের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত গেজেটেও ছিলো তার নাম। সম্প্রতি ২০২১ সালে উপজেলা প্রশাসনের মুক্তিযোদ্ধার চুড়ান্ত তালিকায় নাম থাকলেও এখনও পায়নি শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সনদ,মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা,এমনকি পান না কোন সহায়তা। সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত এই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বলছেন,পরিবারগুলো যোগাযোগ করলে যাচাই বাচাই করে সহযোগিতা করা হবে আর সুশীল সমাজ বলছের, বিজয়ের ৫০ বছরেও শতভাগ  মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলো স্বীকৃতি না পাওয়া জাতীর জন্য লজ্জা জনক।

অচিরেই সঠিক যাচাই বাচাই এর মাধ্যমে বাদ পড়া শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি মিলবে এমনটাই প্রত্যাশা রংপুরবাসীর।

বাংলাটিভি/ এস

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button