fbpx
মানবসম্পদ

দেশে ফেরার জন্য সুদানে বাংলাদেশীদের নাম নিবন্ধনের আহ্বান

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম সুদানে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশীর প্রতি তাদের নাম নিবন্ধন করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন আগামী ২ অথবা ৩ মে সেখানকার বাংলাদেশীদের দেশে ফিরিয়ে আনা শুরু হবে।

তিনি আজ রোববার (৩০ এপ্রিল) বলেন, ‘সুদানে প্রায় ১৫০০ বাংলাদেশী আছে বলে আমরা ধারণা করছি এবং এ পর্যন্ত (সুদানে বাংলাদেশী দূতাবাসে) ৭০০ জন বাংলাদেশী নিবন্ধিত হয়েছেন। দেশে ফিরিয়ে আনতে আমি অবশিষ্ট বাংলাদেশীদের নিবন্ধিত হতে আহ্বান জানাচ্ছি।’

সুদান থেকে বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে তিনি সভাপতিত্ব করেন।
পরে এক প্রেস ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, ‘কিছু বাংলাদেশী-যারা এখন সুদানে বসবাস করছেন, তারা হয়তো সেই যুদ্ধবিধ্বস্ত আফ্রিকান দেশে ফিরে যাওয়া বা দ্বিতীয় কোন দেশে যাওয়ার কথা ভাবছেন। কিন্তু, এটা তাদের জন্য সহজ হবে না।’

আলম বলেন, ‘যেহেতু (বাংলাদেশ) সরকার সহায়তা দিচ্ছে, তাই তাদের নিজেদের নিরাপত্তা ও পরিবারের স্বার্থে সুদান ছেড়ে যাওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করা উচিত।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের ২ বা ৩ মে বাসে করে খার্তুম থেকে পোর্ট সুদানে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখান থেকে ১২ ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে সৌদি আরবের মালিকানাধীন জাহাজের মাধ্যমে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে জেদ্দায় নিয়ে যাওয়া হবে।

খার্তুমে বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের খার্তুম ও পার্শ্ববর্তী শহরগুলো থেকে পোর্ট সুদানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৯টি বাসের ব্যবস্থা করেছে।

আলম বলেন, খার্তুম থেকে ৭০০ বাংলাদেশিকে একসঙ্গে পোর্ট সুদানে নিয়ে আসতে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে বাংলাদেশিরা পোর্ট সুদানে পৌঁছানোর পরদিন জেদ্দায় পৌঁছাবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, পাসপোর্টধারী বাংলাদেশী নাগরিকদের অবিলম্বে জাহাজে আনা হবে এবং যাদের পাসপোর্ট নেই তাদের জেদ্দায় পৌঁছানোর জন্য পরবর্তী সৌদি জাহাজ পেতে দ্রুতই ভ্রমণের কাগজপত্র দেয়া হবে।

তিনি বলেন, সুদান থেকে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের সময় প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিককে খাবার ও কিছু টাকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেদ্দা থেকে আলম বলেন, বাংলাদেশিদের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কয়েকটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে আনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব সরকার আশ্বস্ত করেছে যে-তারা জেদ্দায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয়ের জন্য হোটেলের ব্যবস্থা করবে।

আলম বলেন, এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সহায়তায় সুদান থেকে ৩৫ বাংলাদেশীকে সরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিবন্ধিত সর্বশেষ বাংলাদেশীকে সরিয়ে না আনা পর্যন্ত সুদানে বাংলাদেশ মিশনের কর্মীরা সে দেশ ত্যাগ করবে না।

বাংলাদেশ জেদ্দা মিশনের একটি দল উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তা দিতে ইতোমধ্যেই ইন্দোনেশিয়ার বিমানে সুদানে পৌঁছেছে।

প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশি নাগরিকদের উদ্ধারে সহায়তার জন্য সৌদি আরব ও ইন্দোনেশীয় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button