সাদাকাহ গোশত না দিলে গরুর মাংশ খাওয়া হত না আম্বিয়ার

গাইবান্ধার আম্বিয়া বেগম, বয়স ৬০ ছুই ছুই। স্বামী ছেলে কেউ ই নাই। বিধবা মেয়ে তার দেখা শোনা করে। অন্যের বাড়ির ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালায় মেয়ে। নিত্য খাবার জোটানোর টানাপোড়েনের সংসারে গরুর মাংশ খাওয়ার স্বাধ টাও যেন পাপ। কিন্তু কত কয়েক বছর ধরে সাদাকাহ ইউএসএ কোরবানীর সময় মাংশ বিতরণ করলে যে টুকো পায় তা দিয়ে বছরের গরুর মাংশ খাওয়ার স্বাদ মেটে আম্বিয়া আর তার মেয়ে কুলসুমের।
বাংলাদেশের তৃনমূল গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন ছিন্নমূল এমন কুলসুম আম্বিয়াদের জন্য এবারও দেশর বাংলাদেশের ১৬ টি স্থানে কোরবানীর মাংশ বিতরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সাহায্য সংস্থা সাদাকাহ ইউএসএ। প্রবাসী শিক্ষক ও রিলিজিয়ন্স স্কলার মাওলানা শহিদুল্লাহর নেতৃত্বে প্রতিবছরের মত এবারও এ আয়োজন সম্পন্ন করেছেন সংগঠনের ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবীরা।
সিলেটের স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় সাংবাদিক শাহিদ হাতিমি বলেন, সিলেট জেলা সাদাকাহ ইউনিটের আয়োজনে স্থানীয় ২০ টি পরিবারের মাঝে কোরবানীর মাংশ বিতরণ করা হয়েছে। যাতে করে অন্তত ৮০ দুস্থ: ও অসহায় মানুষ কোরবানীর গোশত খাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ঠিক একইভাবে পিরোজপুরের নেসারাবাদ স্বরুপকাঠির জগৎপট্টি, গাইবান্ধার ফুলছড়ির হরিচন্ডি, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের চর হাতিভাঙ্গা, বরিশালের আগৈলঝাড়া, গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া, ঢাকার কামরাঙ্গির চর, হাজারীবাগ ও আফতাব নগর, ভোলা চরফ্যাশনের চরকুকরি, সিলেটের জৈন্তাপুর, চাঁদপুরের ভিঙ্গুলিয়ার হাইমচর, পিরোজপুর দূর্গাপুরের মৃধা বাড়ি, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া বেতবাড়ি, বরগুনার পাথরঘাটা, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া এবং নেত্রোকোনার নগর দারুসসুন্নাত হাফেজিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে কোরবানীর গোশত বিতরণ করা হয়।
বরগুনার স্থানীয় সাংবাদিক ও সাদাকাহর স্বেচ্ছাসেবক সফিকুল ইসলাম মনে করেন, এমন অনেকেই আছেন যারা সারা বছর এই কোরবানীতে একটু গরুর মাংশ খাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন, তাদের জন্য সাদাকাহ ইউএসএর এ আয়োজন নিঃসন্দেহে অনেক বড় সওয়াবের আয়োজন। তাই কোরবানীর গোশত পেয়ে তারা শুকরিয়া প্রকাশ করেছেন এবং সাদাকাহ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
গাইবান্ধা ও জামালপুর এলাকার ভলান্টিয়ার ও স্থানীয় শিক্ষক গোলাম মওলার জানান, অসুস্থ ও অতিদরিদ্র প্রতিবেশীদের জন্য সাদাকাহর এমন আয়োজনে খুশি উত্তরজনপদের সুশীল সমাজের মানুষেরা। ভোলার চরকুকরির স্বেচ্ছাসেবক ও সরকারি চাকুরীজীবি আলআমিন হিমেল বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন সময়ে সাদাকাহ ইউএসএর বিভিন্ন সেবাধর্মী কাজে যুক্ত থাকার চেষ্টা করি। এবার কোরবানীর মাংশ বিতরণের জন্য আমরা ইতোমধ্যে ভাগে পশু ক্রয়ের প্রস্তুতি ও বিতরণ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছি।
ময়মনসিংহের স্বেচ্ছাসেবক ও সাংবাদিক তানভীর হাসান বলেন, স্থানীয় বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে আমরা প্রতিবছর সাদাকাহ ইউএসএর সহযোগিতায় দু:স্থ এতিমদের জন্য কোরবানীর মাংশ বিতরণের কাজ করছি। এবারও কোরবানীর গোশত বিতরণ করা হয়েছে অসহায় দুঃস্থদের মাঝে। সাংবাদিক হযরত আলী হিরু জানান, সাদাকাহ ইউএসএর আয়োজনে কোরবানীর মাংশ বিতরণের জন্য অপেক্ষা থাকা মানুষগুলো গোশত পেয়ে খুবই খুশি হয়েছেন। আর শিক্ষক ও সমাজ সেবক এনামুল হক বলেন, তাদের স্থানীয় সংগঠন আমানত ও সাদাকাহ ইউএস্ যৌথভাবে প্রতিবছরের মত এবারো কোরবানীর মাংশ বিতরণে খুশি হয়েছেন দরিদ্র অসহায় মানুষ।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী মাওলানা শহিদুল্লাহ বলেন, সাদাকাহ ইউএসএ মূলত স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠন। সবার সহযোগিতাকে তৃনমূলের অসহায় মানুষের কাছে পৌছে দিতে কাজ করি আমরা। প্রতিবছরের মত এবারো দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলার ১৬ টি স্থানে দরিদ্র হতদরিদ্রদের মাঝে কোরবানীর মাংশ বিতরণ করা হয়েছে। আগামীতে সবার সহযোগিতায় এই কর্মসূচিকে আরো বড় পরিসরে করার প্রত্যাশার কথা জানান সাদাকাহ ইউএসএ প্রধান নির্বাহী মাওলানা শহিদুল্লাহ।