চীন থেকে জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ মিসাইল কিনছে ইরান
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক চাপ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে আরব সাগরে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী হিসেবে পরিচিত USS Gerald R. Ford-কে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পানিসীমার কাছাকাছি আনার প্রক্রিয়া চলছে, যা ইতোমধ্যে ভূমধ্যসাগরে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানকে কঠোরভাবে মোকাবিলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, এসব রণতরীকে যত শক্তিশালী করেই উপস্থাপন করা হোক না কেন, তারা এতে ভীত নয়।
সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei মন্তব্য করেন, মার্কিন রণতরী তাদের ভয় দেখাতে পারবে না, কারণ ইরানের হাতে এমন অস্ত্র রয়েছে যা প্রয়োজনে এসব বিশাল জাহাজকে সাগরে ডুবিয়ে দিতে সক্ষম। তার এই বক্তব্যের পর থেকেই আলোচনায় উঠে আসে, ঠিক কী ধরনের সামরিক সক্ষমতার ওপর ভরসা করছে তেহরান।
বার্তা সংস্থা Reuters ছয়জন সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, চীনের কাছ থেকে জাহাজ-বিধ্বংসী সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল কেনার চুক্তির শেষ পর্যায়ে রয়েছে ইরান। প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের তৈরি সিএম-৩০২ (CM-302) অ্যান্টি-শিপ মিসাইল সংগ্রহ করছে তেহরান।
সিএম-৩০২ মূলত চীনের ওয়াইজে-১২ (YJ-12) সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইলের একটি রপ্তানি সংস্করণ। এটি উচ্চগতিসম্পন্ন এবং শত্রুপক্ষের জাহাজভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার উপযোগী করে তৈরি। এর কার্যক্ষম পাল্লা প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বলে জানা গেছে। স্থলভিত্তিক মোবাইল লঞ্চার, জাহাজ কিংবা বিমান—তিন মাধ্যম থেকেই এটি নিক্ষেপ করা সম্ভব।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের হাতে এলে সমুদ্রপথে বড় আকারের যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সূত্র হিসেবে ভারতীয় গণমাধ্যম The Times of India-এর প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।



