‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না ইরান’

ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না তার দেশ। সোমবার (২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।
এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে লারিজানির বক্তব্যে সেই জল্পনা নাকচ হয়ে গেছে। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। লেবানন–এ ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। রাজধানী বৈরুত–এর দক্ষিণ শহরতলীতে এই হামলা চালানো হয়।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, লেবানন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর পরিস্থিতি সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে। তবে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন একে ‘প্রক্সি সংঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশকে এতে জড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হলো।
সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে ইসরায়েল লেবাননের ৫০টিরও বেশি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ–এর স্থাপনার আশপাশে অবস্থান না করতে সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) এক জরুরি বৈঠকে ইরানের ‘আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপের অঙ্গীকার করেছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার রয়েছে।
এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলা নিয়ে মার্কিন জনমতও বিভক্ত। রয়টার্স/ইপসস–এর যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ২৭ শতাংশ আমেরিকান এই সামরিক পদক্ষেপ সমর্থন করেছেন, আর ৪৩ শতাংশ সরাসরি বিরোধিতা করেছেন।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় সামরিক শক্তি ব্যবহারে অতিরিক্ত আগ্রহী।
আন্তর্জাতিক এই অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের এই উত্তেজনায় বাংলাদেশ শান্তি ও সংলাপের পক্ষে থাকবে, তবে আপাতত কোনো পক্ষ নেবে না।



