যুক্তরাষ্ট্রআন্তর্জাতিকএশিয়ামধ্যপ্রাচ্য

ইরানে মার্কিন-ই/স/রা/ই/লি হা/ম/লা/য় এ পর্যন্ত যত প্রা/ণ/হা/নি ও ক্ষয়ক্ষতি

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত হামলা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ মানবিক ও অবকাঠামোগত বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ইরান, ইসরাইল এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে। ইরানে বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে ১,৯৭ জন, যার মধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ড্রোন হামলায় শিক্ষার্থীরাও মারা গেছেন। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নৌবাহিনীর ১৭টি জাহাজ এবং অন্তত ৪৯ শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা ধ্বংস বা নিহত হয়েছেন।

পাল্টা জবাবে ইরান ইসরাইলের ওপর শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। বেইত শেমেশ শহরে একটি আবাসিক ভবনে সরাসরি আঘাত হানায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া কুয়েত ও বাহরাইনে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের মধ্যে ৬ জন নিহত এবং ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। লেবানন, ওমান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং কাতারের এলএনজি উৎপাদন স্থগিত হওয়ার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ইউরোপ ও এশিয়ায় গ্যাসের দাম আকাশচুম্বীভাবে বেড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, এই সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্বব্যাপী মানবিক, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button