ইরানে হা/ম/লা/র প্রথম ৪ দিনেই প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জেরে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে বলে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Anadolu Agency–এর সংকলিত তথ্য ও অনুমান থেকে জানা গেছে।
সবচেয়ে বড় ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি–তে অবস্থিত মার্কিন এএন/এফপিএস–১৩২ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার সিস্টেম, যার আনুমানিক মূল্য ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কাতার নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া কুয়েতে বন্ধুত্বপূর্ণ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি এফ–১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে, যার প্রতিস্থাপন ব্যয় প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার। বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও হামলার ঘটনায় দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল (এএন/জিএসসি–৫২বি) ও বেশ কিছু অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। প্রতিটি টার্মিনালের মূল্য আনুমানিক ২০ মিলিয়ন ডলার।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস শিল্পাঞ্চলে মোতায়েন করা একটি এএন/টিপিওয়াই–২ রাডার উপাদান ধ্বংস হওয়ার দাবিও করেছে ইরান, যার সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট চিত্রে আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব হিসাব একত্র করলে প্রায় ১ দশমিক ৯০২ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সামরিক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির কথা উঠে আসে।
এদিকে ইরান বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে অবস্থিত অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি, ক্যাম্প আরিফজান এবং ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামরিক অংশে হামলার প্রমাণ হিসেবে আগুন ও ধোঁয়ার ছবি প্রকাশিত হয়েছে।
সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সৌদি আরবের রিয়াদ, কুয়েত সিটি ও দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেত্রে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও অবকাঠামোগত ক্ষতির কথা জানানো হলেও বড় ধরনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত হয়নি।



