রাজনীতিঅন্যান্যবিএনপি

‘মির্জা আব্বাসের অসুস্থতা নিয়ে কুমিরের কান্না বন্ধ করুন’

বিএনপির প্রবীণ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা আব্বাস-এর অসুস্থতাকে ঘিরে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার। তিনি মনে করেন, একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিকের শারীরিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সহানুভূতি দেখিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা অনভিপ্রেত।

শনিবার (১৪ মার্চ) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি সুবিধাবাদী রাজনৈতিক আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন।

নিজের পোস্টে আজাদ মজুমদার উল্লেখ করেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে মির্জা আব্বাসকে অন্তত তিনবার কারাগারে যেতে হয়েছে। সেই সময়ে তার বিরুদ্ধে প্রায় ১১টি মামলা করা হয়েছিল, যেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ব্যাপকভাবে আলোচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও অতীতে মির্জা আব্বাস সেইসব মানুষের কাছ থেকে কোনো সহানুভূতি পাননি, যারা এখন তার অসুস্থতা নিয়ে কৃত্রিম আবেগ দেখাচ্ছেন। তার মতে, এর পেছনে মূল কারণ হলো—বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে তিনি কারও কারও ‘শত্রুর শত্রু’ হয়ে উঠেছেন।

মির্জা আব্বাস ও তার পরিবারের ওপর দিয়ে যাওয়া কঠিন সময়ের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হয়রানি, মানসিক চাপ এবং কারাবাসের কারণে তার পরিবারকে বড় ধরনের ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা সহজে ভুলে যাওয়ার মতো নয় এবং সুবিধাবাদী সহানুভূতি দিয়ে সেই ইতিহাস মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে তার অসুস্থতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা চলছে, সেটিও সমালোচনা করেন আজাদ মজুমদার। তিনি বলেন, কেউ কেউ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে তার অসুস্থতার জন্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করার চেষ্টা করছেন, যা কোনোভাবেই গঠনমূলক নয় এবং এতে মির্জা আব্বাসেরও কোনো উপকার হবে না।

পোস্টের শেষে তিনি সবাইকে লোক দেখানো প্রতিক্রিয়া বা রাজনৈতিক লাভের হিসাব না করে আন্তরিকভাবে মির্জা আব্বাসের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, যারা সত্যিকারের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রাখেন, তাদের আন্তরিক প্রার্থনাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে প্রয়োজন। তিনি দ্রুত সুস্থতা কামনা করে লেখেন—“আব্বাস ভাই, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।”

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button