
আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে রাজধানীর জলাবদ্ধতা কমানোর জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সেগুনবাগিচায় বক্স কালভার্ট পরিষ্কারের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
প্রশাসক বলেন, বর্ষা মৌসুমে নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে ডিএসসিসি ইতিমধ্যেই বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীর চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময় পাঁচ মাস হলেও বিশেষ নির্দেশনায় আগামী এক মাসের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করে পানির প্রবাহ সচল করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরও জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে রাজধানীতে ৩৩টি ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি এলাকায় জরুরি সাড়া দেওয়ার জন্য ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (ইআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া অতিবৃষ্টির সময় জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের জন্য নতুন ছয়টি পোর্টেবল পাম্প এবং দুটি স্থায়ী পাম্প স্টেশন সচল রাখা হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বর্তমানে টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিলে তিনটি আউটলেট থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এই পরিস্থিতিতে নিউমার্কেট ও পুরান ঢাকার সোয়ারীঘাট এলাকায় দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাস্টারপ্ল্যান আধুনিকায়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের আওতায় জিরানি, শ্যামপুর, কালুনগর ও মান্ডা খালের প্রবাহ সচল ও পরিবেশ উন্নয়নে প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রশাসক নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে-সেখানে পলিথিন বা বর্জ্য ফেললে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়, তাই সচেতন থাকলে জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিয়ন্ত্রণে শতভাগ সাফল্য অর্জন সম্ভব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



