বিজিবি-সীমান্তবাসীর শক্ত প্রতিরোধে ১২ জনকে নিয়ে পিছু হটল বিএসএফ

দৌলতপুর, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে পুশইন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও সেখানে জড়ো হন।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোরে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে ওই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সীমান্তের ভারতীয় অংশে অবস্থান করছিলেন।
ঘটনার পরদিন শনিবার সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়ে সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলে।
জবাবে বিএসএফ জানায়, সংশ্লিষ্ট ১২ জনের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ততদিন তাদের সীমান্ত এলাকাতেই রাখা হবে বলে জানানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে বিএসএফ ও ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকার কিছু বাসিন্দা শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান নিলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর দৃঢ় অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ১২ জনকে নিয়ে পিছু হটে এবং তাদের ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের ভেতরে সরিয়ে নেয়।
প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল বলেন, সকালে সীমান্ত এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভারতীয় অংশে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বিজিবি। কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।



