আমার সম্মান নৈতিকতা ও চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে: পরীমনি

বিনোদন ডেস্ক: চার বছর আগে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি। শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন এবং রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি দাবি করেন।
পোস্টে পরীমনি দাবি করেন, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাকে বেআইনিভাবে এবং বিশেষ স্বার্থে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, ওই ঘটনার কারণে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে তিনি গভীর ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হারিয়ে যাওয়া সম্মান, মানসিক শান্তি ও জীবনের মূল্যবান সময় আদৌ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না।
সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী তাকে ধন্যবাদ জানান। তার দাবি, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে অনেক অজানা তথ্য সামনে এসেছে এবং তার গ্রেপ্তার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পরীমনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে ২৮ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তার জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং একজন শিল্পী, নারী ও মানুষ হিসেবে তাকে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, তার সম্মানহানি, মানসিক যন্ত্রণা এবং জনমনে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণার দায় কে নেবে। তবে প্রতিশোধ নয়, সত্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচারই তার একমাত্র প্রত্যাশা বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে যেন কোনো নির্দোষ ব্যক্তি এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে আহ্বানও জানান এই অভিনেত্রী।
পোস্টের শেষাংশে পরীমনি বলেন, অতীতের তিক্ততা পেছনে ফেলে তিনি নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চান। নিজের কাজ, সন্তান, পরিবার এবং দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই সামনের দিনগুলো কাটানোর ইচ্ছার কথাও তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। অভিযোগে বাসা থেকে বিদেশি মদ, আইস (ক্রিস্টাল মেথ) ও এলএসডি উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এছাড়া ২০২১ সালে ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। সেই মামলাও বর্তমানে বিচারাধীন। একই ঘটনার জেরে নাসির উদ্দিন মাহমুদও পরীমনির বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা করেন, যা এখনো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।



