নীলফামারীতে ভালো ফলনেও দাম নিয়ে শঙ্কায় আখচাষিরা

আজাদ হোসেন আওলাদ মিয়া, নীলফামারী থেকে: উত্তরের জেলা নীলফামারীতে এবার আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে করে দিন দিন বেড়েই চলছে জেলায় আখের চাষ। তবে আখ চাষে ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং সরকারি প্রণোদনার অভাব প্রধান সমস্যা। উৎপাদন খরচের তুলনায় মুনাফা কম হওয়ায় এবং বাজারমূল্য ওঠানামা করায় কৃষকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তথ্যমতে, চলতি বছরে জেলায় কৃষকেরা ১৭৭ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করেছে। যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এসব এলাকায় আখের জাত ঈশ্বরদী ১৬১৭ বিএসআরআই -৪১,৪৫,৪৭ চাষাবাদ হয়ে থাকে। কিন্তু আবহাওয়া তারতম্য থাকায় নানান রোগবালাই লেগে আছে। নানা প্রকার কীটনাশক প্রয়োগ করেও আখের রোগবালাই দূর করতে পারতেছে না।
নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের বসুনিয়া বাজার এলাকার ধীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে আখচাষ করে আসতেছি। এটা খুব লাভজনক আবাদ। আখ ছোট থেকে পরিচর্যা করলে রোগবালাই কম হয়। বিঘায় খরচ ১৫/২০ হাজার খরচ। এছাড়া সার, কীটনাশক ও মজুরি দাম বেশি থাকায় গত বছরের তুলনায় অধিক লোকসান গুনতে হবে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পক্ষ থেকে তাদের মাঝে প্রণোদনা দিলে খানিকটা স্বস্তিতে ফিরে আসবে। সেই সাথে আগ্রহ বাড়বে আখ চাষে।
আরেকজন কৃষক শিখনাথ রায় বলেন, আমি ১৫ শতাংশ জমিতে আবাদ করছি। লাভ ভালো হওয়ায় আগামীতে আরো বেশি করে চাষ করবো। সময়মতো আখের ওষুধ প্রয়োগ করতে না পারলে পচন রোগ বৃদ্ধি পায়। আখ চাষ করলে অল্প খরচে বেশি লাভবান হওয়া যায়। কিন্তু ঠিকমতো পরিচর্যা করতে হয়।
আখ চাষি মিজানুর রহমান বলেন, বিগত কয়েক বছর যাবত চাষাবাদ করে আসতেছি এবং এ চাষে বেশ লাভজনকও হয়েছি। প্রতি বিঘা আখ চাষে খরচ হয় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। রোগবালাই ও আবহাওয়া অনুকূল থাকলে প্রতিবিঘা এক থেকে দের লাখ টাকা বিক্রি হয়।
তিনি আরও বলেন, জেলাজুড়ে আমাদের আখের প্রচুর পরিমাণ চাহিদা। তবে এবার আখে বিভিন্ন রোগ হওয়া লোকসানে পড়তে হতে পারে।
গোড়গ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা তুষার বলেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা আখের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ ও সরকারি সহায়তা প্রদান না করা হলে আখের চাষাবাদে অনাগ্রহ হবে।
নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হোমায়রা বলেন, আখ চাষিদের যেকোনো সহযোগিতায় কৃষি বিভাগ পাশে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, নীলফামারী অঞ্চলে বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা ও সদর উপজেলায় মাটিতে সকল প্রকার আখ চাষে উপযোগী।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বলেন, এসব আখ রসালো এবং সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদাও ব্যাপক। আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে, সরিষা, বাদাম, মিষ্টি কুমড়া, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, স্কোয়াশ ইত্যাদি চাষ করা যায়।



