কিশোর রায়হানকে দীঘিতে চুবিয়ে হত্যা; দুই বন্ধু গ্রেপ্তার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা সদর উপজেলার হরিণসিংহা দীঘিতে কিশোর রায়হান প্রধানকে দীঘির পানিতে চুবিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে র্যাব-১৩-এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার সাকিব মিয়া (১৮) ও রিফাদ মিয়া (১৬)। তারা ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ১৬ জুন বিকেলে রায়হান প্রধানকে তার দুই বন্ধু সাকিব ও রিফাদ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হরিণসিংহা দীঘিতে গোসল করতে যায়। গোসলের একপর্যায়ে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা রায়হানকে মারধর করে পানিতে চুবিয়ে ধরে রাখে। এতে রায়হান অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে দীঘির পাড়ে ফেলে রেখে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্থানীয় বাসিন্দা হিরা মিয়া রায়হানকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা রায়হানের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মকবুল হোসেন গত ১৯ জুন গাইবান্ধা সদর থানায় দুই কিশোরকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই তারা পলাতক ছিলেন।
র্যাব আরো জানান, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১১ জুলাই) রাতে পৃথক অভিযানে ঢাকার খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে সাকিব মিয়াকে এবং বিমানবন্দর থানার সেন্টার পয়েন্ট শপিং মলের সামনে থেকে রিফাদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, হত্যা, অপহরণ ও ধর্ষণসহ সংঘটিত গুরুতর অপরাধ দমনে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।



