পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নাবালিকাকে ধর্ষণের পর হত্যা, তিন আসামি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক কন্যাশিশুকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে বারুইপুর এলাকায় পালানোর সময় মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে আটক করা হয়। এর আগে প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দার নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রভাস মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই বাকিদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
গত শনিবার বিকেলে সূর্যপুর হাট এলাকার ধপধপি থেকে বান্ধবীর বাড়ি যাওয়ার পথে শিশুটিকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হলেও প্রথমে তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে রোববার ভোরে বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মরদেহ সড়কে রেখে বিক্ষোভ করেন এবং রেলপথ অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বারুইপুর, সোনারপুর ও নরেন্দ্রপুর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্তসহ বাকি দুজনকে আটক করা হয়। ঘটনার তদন্তে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজ্যের শাসক দল ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
এছাড়া বিক্ষোভ চলাকালে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে হত্যা করার অভিযোগও উঠেছে, যার বিষয়ে পৃথক তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



