ঢাবি প্রশাসনের তদন্ত কমিটি মানে একটা মুলা ঝুলানো: সাদিক কায়েম

বাংলা টিভি ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটিকে ‘মুলা ঝুলানো’ বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের পদত্যাগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ডাকসু আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন অনেক সময় শুধু বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার কৌশলে পরিণত হয়। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি শাহবাগ থানায় ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও চার মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
ছাত্রদলের উদ্দেশে ডাকসু ভিপি বলেন, ক্যাম্পাসে সভ্য ও দায়িত্বশীল রাজনীতি করতে হবে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে নব্বইয়ের পরের ক্যাম্পাসের মতো সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি কিংবা গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
ফজলুল হক মুসলিম হলের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে হলের শিক্ষার্থী ইব্রাহিমকে প্রভোস্ট ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন। একই সঙ্গে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে মিথ্যা জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাদিক কায়েম আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। এখনো ফুটেজ প্রকাশ না করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তার দাবি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। এতে ফজলুল হক মুসলিম হলের নির্বাচিত ভিপি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসান আহত হয়েছেন এবং ইমামুল হাসান এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন ডাকসু ভিপি। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের দাবি সমাধানের পরিবর্তে প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রভোস্টকে রক্ষায় ব্যস্ত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু প্রভোস্ট নয়, তার সঙ্গে একটি ‘সিন্ডিকেট’ জড়িত থাকতে পারে, যারা শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের সঙ্গে যুক্ত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সাদিক কায়েম ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং আগের শাহবাগ থানার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।



