বাংলাদেশ

জামালপুরে ‘জাদু-টোনা’র আতঙ্ক, বাড়ির সামনে মিলছে লেবু-সিঁদুর ও লাল সুতা

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জে কথিত জাদু-টোনাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতের বেলায় বিভিন্ন বাড়ির দরজা, উঠান কিংবা গাছের নিচে লেবু, সিঁদুর, লাল সুতা ও রহস্যজনক কিছু জিনিস রেখে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন গ্রামবাসী। বিশেষ করে পরিবারের সদস্য ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেকে। ভয়ে অনেকের রাত কাটছে নির্ঘুম।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের খাঁনপাড়া গ্রামে গিয়ে এমন পরিস্থিতির দেখা মেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কয়েকদিন ধরে রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বিভিন্ন বাড়ির সামনে এসব সামগ্রী রেখে যাচ্ছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির দরজা কিংবা উঠানে অস্বাভাবিক এসব জিনিস দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় বাসিন্দা মিয়ার উদ্দিন খাঁন জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির দরজার সামনে লেবু ও লাল সুতা দিয়ে বাঁধা কিছু জিনিস দেখতে পান তিনি। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘কারও সঙ্গে তো আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। এরপর থেকে পোলাপান নিয়ে ভয়ে আছি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না।’

এ ধরনের ঘটনার পর পুরো গ্রামেই এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যা হলেই অনেকের মধ্যে অজানা আতঙ্ক কাজ করছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ঘটনাগুলোকে কথিত জাদু-টোনা কিংবা তান্ত্রিক কর্মকাণ্ড বলে ধারণা করছেন। আবার অনেকে মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ছড়ানোর উদ্দেশ্যে কেউ এসব করছে।

পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় যুবকদের কয়েকজন রাতের বেলায় গ্রাম পাহারা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে সচেতন মহল বলছে, বাড়ির সামনে লেবু, সিঁদুর কিংবা লাল সুতা রেখে যাওয়ার সঙ্গে অলৌকিক কোনো ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ব্যক্তিগত বিরোধ, ভয়ভীতি সৃষ্টি কিংবা সামাজিক অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে কেউ এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুজব ও কুসংস্কারে কান না দিয়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে কামালের বার্ত্তী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জসীমউদ্দীন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে এসব সামগ্রী রেখে যাওয়ার পেছনের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে গ্রামবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক দূর হবে এবং স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button