দেয়ালে ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’ স্লোগান, ‘ইয়ার্কি’ বললেন অভিযুক্ত স্কুলছাত্রীরা

বাংলা টিভি ডেস্ক: চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের একটি গলিতে রাজনৈতিক স্লোগান লেখার ঘটনায় ছয় ছাত্রীর কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দেয়ালে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হাসিনা’, ‘মুজিব সেনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযুক্ত ছাত্রীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকেরাও উপস্থিত হন। জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ছাত্রীদের বক্তব্য লিখিতভাবে গ্রহণ করা হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে পঞ্চম শ্রেণির একজন এবং সপ্তম শ্রেণির চারজন ছাত্রীকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে সপ্তম শ্রেণির আরেকজন ছাত্রী এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর নাম উঠে আসে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি এম তারিক উজ্জামান এবং নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ফাহাদ চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য গ্রহণের পর তাঁরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিমসহ শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় স্থিরচিত্র সংগ্রহ করেন।
বিদ্যালয় সূত্রের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছাত্রীরা জানিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা কারও প্ররোচনায় নয়, মজা করার ছলেই তারা দেয়ালে এসব স্লোগান লিখেছে। তাদের পরিবারের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলেও জানা গেছে।
তবে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, ঘটনার সময় ক্যামেরার আড়ালে দাঁড়িয়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী তাদের দেয়ালে স্লোগান লিখতে নির্দেশ দিয়েছিল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন দেয়ালে লেখার বিষয়টি স্বীকার করেছে। অন্যরা দাবি করেছে, তারা শুধু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল, কী লেখা হচ্ছে সে সম্পর্কে তাদের জানা ছিল না।
তবে ছাত্রীদের দেওয়া ব্যাখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রধান শিক্ষক। তাঁর ভাষ্য, ছাত্রীদের শরীরী ভাষায় বিষয়টিকে নিছক মজা হিসেবে দেখানোর কোনো লক্ষণ ছিল না। এমনকি তাদের একজনকে বেশ উত্তেজিত অবস্থায় স্লোগান দেওয়ার ভঙ্গিতেও দেখা গেছে।
এদিকে ঘটনার নেপথ্যে থাকা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বক্তব্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শ্রেণিশিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তার বক্তব্য পাওয়ার পর পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হবে। জেলা ও পুলিশ প্রশাসনও বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাত্রীদের কাছ থেকে কোনো মুচলেকা নেওয়া হয়নি। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতেই তাদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বক্তব্য পাওয়ার পর ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে। পরবর্তী সময়ে ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশ এবং প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



