রাজনীতিঅন্যান্যবাংলাদেশ

বালুর ট্রাক দিয়ে রাস্তা আটকে রাখা শেখ হাসিনার কপি

নাহিদ ইসলাম

বাংলা টিভি ডেস্ক: দেশে নতুন করে ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখা শেখ হাসিনার কপি।’ একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্দোলন দমনে পুরোনো কৌশলের অনুকরণ না করে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রাশিদ আবরারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। এনসিপি নেতাদের সফরকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

হবিগঞ্জে দলের কর্মসূচিতে হামলা ও বাধার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (ডিএসএ) ব্যবহার করে মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করেছিল। তার অভিযোগ, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্যের সুযোগ রয়েছে এবং বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তির বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ভাষ্য, ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে নব্য ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ঢাকার মাটিতে পা রাখলে ‘দেখা যাবে’।

হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলা এবং মৌলভীবাজারে পুলিশের বাধার ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে পৌঁছান। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে দক্ষিণ সুরমার পারাইচক বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে দলীয় নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান। পরে তারা সেখান থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যান।

এনসিপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলার পাঁচটি উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রাসেলুর রহমান।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি সদর দপ্তরে আবেদন পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে বুধবার হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে রাতযাপন করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা সেখান থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button