যে আল্লাহর উপর ভরসা করে সে কখনও একা নয়!

বাংলা টিভি ডেস্ক: মানুষের জীবনে এমন সময় আসে, যখন সব পথ যেন বন্ধ হয়ে গেছে বলে মনে হয়। পরিকল্পনা ভেঙে যায়, প্রিয়জন দূরে সরে যায়, আর সামনে শুধু অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় অবলম্বন হলো তাওয়াক্কুল—আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও নির্ভরতা। তাওয়াক্কুলের অর্থ শুধু মুখে আল্লাহর ওপর ভরসার কথা বলা নয়; বরং নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে ফলাফল মহান আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া।
পবিত্র কোরআনে ও নবীদের জীবনে তাওয়াক্কুলের অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। হজরত ইউসুফ (আ.) কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েও পাপের সঙ্গে আপস করেননি। তিনি জানতেন না সামনে কী ঘটবে, তবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, আল্লাহ তাকে উত্তম পথ দেখাবেন। একইভাবে হজরত মুসা (আ.) যখন সাগরের সামনে এবং ফেরাউনের বাহিনী পেছনে, তখনও আল্লাহর সাহায্যের ব্যাপারে তিনি বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেননি। মানবীয় দৃষ্টিতে পথ বন্ধ থাকলেও আল্লাহর রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।”
(সুরা আত-তালাক: ৩)
ইসলাম তাওয়াক্কুলের পাশাপাশি চেষ্টা ও পরিশ্রমেরও শিক্ষা দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি মানুষ যথার্থভাবে আল্লাহর ওপর ভরসা করত, তাহলে আল্লাহ তাদের এমনভাবে রিজিক দিতেন, যেমন তিনি পাখিদের রিজিক দেন। পাখিরা সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাদ্যের সন্ধানে বের হয় এবং সন্ধ্যায় তৃপ্ত হয়ে ফিরে আসে। অর্থাৎ তারা বসে থাকে না; চেষ্টা করে, তারপর আল্লাহর ওপর নির্ভর করে।
জীবনের প্রতিটি কঠিন সময় একজন মুমিনকে মনে রাখতে হবে—আল্লাহর পরিকল্পনাই সর্বোত্তম। কোনো কষ্টই স্থায়ী নয় এবং প্রতিটি পরীক্ষার পরই স্বস্তি রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
“নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি।”
(সুরা আশ-শারহ: ৫–৬)
আমরা ভবিষ্যৎ জানি না, কিন্তু ভবিষ্যতের মালিককে চিনি। তাই হতাশা নয়, ভয় নয়; বরং আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস রাখাই একজন মুমিনের পথ। আন্তরিক চেষ্টা, ধৈর্য এবং তাওয়াক্কুল একসঙ্গে থাকলে আল্লাহ এমন পথ খুলে দেন, যা মানুষের কল্পনারও বাইরে। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, সে কখনো প্রকৃত অর্থে একা থাকে না।



