আন্তর্জাতিকইন্ডিয়া

ভারতে ভূত আতঙ্কে হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলার একটি সরকারি উপজাতীয় আবাসিক বিদ্যালয়ে ‘ভূতের উপদ্রব’ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী হোস্টেল ছেড়ে চলে গেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মুম্বাই থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে মেলঘাট অঞ্চলের চিকলদারা তালুকের ডোমা গ্রামে বিদ্যালয়টির অবস্থান। আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের পরিচালিত এই আবাসিক বিদ্যালয়ে মোট ৮১০ জন শিক্ষার্থী থাকত।

গত ২২ জুলাই থেকে চারজন ছাত্রী হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। তারা কখনো অনিয়ন্ত্রিতভাবে হাসছিল, আবার কখনো কাঁদছিল। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী হোস্টেলে নূপুরের শব্দ শোনার দাবি করলে সেখানে ভূতের উপস্থিতি রয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিদ্যালয়ে চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে। উপজাতীয় বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চিকিৎসকদের ধারণা, ঘটনাটি কোনো অতিপ্রাকৃত বিষয় নয়। বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপের কারণে ‘সিলেক্টিভ হিস্টেরিয়া’র মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে নানা ধরনের বিশ্বাসও তৈরি হয়। তাদের কেউ কেউ মনে করত, বিদ্যালয়ের একটি মহুয়া গাছ কেটে ফেলা, ড্রেনেজ নির্মাণের কারণে স্থানীয় দেবীর মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কাছাকাছি এক আদিবাসী যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো আত্মা ক্ষুব্ধ হয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

এদিকে কুসংস্কারবিরোধী সংগঠন মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করছে। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে ভয় বা কুসংস্কারের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

অমরাবতীর সংসদ সদস্য বলবন্ত ওয়াংখেড়ে শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত না হয়ে আবারও ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এবং এরই মধ্যে কয়েকজন হোস্টেলে ফিরে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button