শিক্ষার্থীর মায়ের অশ্লীল ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি (ডিজিটাল): গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক শিক্ষার্থীর মায়ের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসার তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আবু সাঈদ নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজ।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ব্যক্তিগত ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও আট আনা ওজনের স্বর্ণালংকার নেওয়া হয়েছে। পরে আরও ৫২ হাজার টাকা দাবি করা হলে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
অভিযোগটি উঠেছে গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার লালমাটিয়া নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসার তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এজাহারে অভিযুক্ত অন্য দুজন হলেন ফরিদুল ইসলাম ও মোহন মিয়া।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সন্তানকে ওই মাদ্রাসায় পড়ানোর সুবাদে এক শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে যোগাযোগের একপর্যায়ে তাঁর ব্যক্তিগত ভিডিও গোপনে ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ওই ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৯ অক্টোবর মেয়ের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার কথা বলে ওই নারীকে মাদ্রাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর ব্যক্তিগত ভিডিও ও ছবি দেখিয়ে আরও অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এরপর গত ২৪ অক্টোবর বিকেলে ফোন করে ওই নারীর কাছে আরও ৫২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ভিডিও মুছে দেওয়ার আশ্বাসে তিনি টাকা দিতে রাজি হন। পরে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ ডাকবাংলো এলাকায় টাকা দিতে গেলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী গোবিন্দগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলার দুই নম্বর অভিযুক্ত শিক্ষক আবু সাঈদকে আটক করে। পরে রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজ আলম মুঠোফোনে বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সকালে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করা হয়। তিনি এ মামলার দুই নম্বর আসামি। পরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’



