জাতীয়

পাঠ্যবই থেকে দাঁড়িপাল্লার ছবি বাদ, এখন যা থাকবে

বাংলা টিভি ডেস্ক: তুমুল বিতর্কের মুখে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বই থেকে দাঁড়িপাল্লার ছবি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পিরামিডে ডেটা বা উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা- এ চারটি স্তরের নাম থাকবে। তবে এর সঙ্গে কোনো আইকন বা প্রতীক রাখা হবে না।

রোববার (২৫ অক্টোবর) এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান গণমাধ্যমেক এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা- এ চারটি স্তরের নাম থাকবে। তবে কোনো আইকন বা প্রতীক থাকবে না। আগামী বছর এভাবেই শিক্ষার্থীদের হাতে বইটি যাবে। পরের বছর বিষয়গুলো আরও পরিমার্জন করা হবে, যাতে কোনো ভুল তথ্য না যায়। পাঠ্যবইয়ে যেভাবে এলো দাঁড়িপাল্লার ছবিইংরেজি শব্দ ‘উইজডম’ (Wisdom)-এর বাংলা অর্থ প্রজ্ঞা। তবে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে শব্দটির বাংলা অর্থ হিসেবে ‘বুদ্ধি’ লেখা হয়েছিল। তখন এর প্রতীক ছিল দাঁড়িপাল্লা। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে ‘বুদ্ধি’র প্রতীক পরিবর্তন করে মস্তিষ্কের ছবি যুক্ত করে এনসিটিবি। পরে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই পরিমার্জনের সময় সংশ্লিষ্ট কমিটি ‘বুদ্ধি’র পরিবর্তে ‘প্রজ্ঞা’ লেখার সুপারিশ করে। তবে প্রতীক হিসেবে মস্তিষ্কের ছবি রাখার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা অনুসরণ করা হয়নি। নতুন সংস্করণে আবারও দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু এটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ও নির্বাচনি প্রতীকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছবিটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি।

এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, আপাতত ওই বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিতরণের জন্য মাঠে পাঠানো বইও সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীকটি পরিমার্জনের পর শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা হবে।

ছাপাখানার মালিক ও এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই ছাপানো হচ্ছে প্রায় ৩৮ লাখ কপি। বিতর্কিত ছবি থাকা বইটির ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ে পাঠানো বই সংগ্রহ করে সংশোধন করতে হলে বাড়তি খরচ ও সময় লাগবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button