নিজ উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন সবুজ পথ গড়ে তুললেন গাইবান্ধার প্রকৌশলী

রিফাতুন্নবী রিফাত, গাইবান্ধা থেকে: দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা এক অপরূপ ছবি। সড়কের দুই পাশে সারি সারি কৃষ্ণচূড়ার গাছ, চারদিকে সবুজের সমারোহ। কোথাও ডালপালার ছায়া, কোথাও সবুজ পাতার মায়াবী হাতছানি। শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে এমন স্নিগ্ধ পরিবেশ পথচারী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের মনে জাগায় প্রশান্তি।
গাইবান্ধা শহরের অদূরে খোলাহাটি ইউনিয়নের ভেড়ামারা ব্রিজ এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে গড়ে উঠেছে সবুজের এমনই এক ব্যতিক্রমী আবহ। আর এই সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছেন প্রকৌশলী শামীম প্রামাণিক বাদল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে তিনি বদলে দিয়েছেন এলাকার চিত্র। তাঁর এই উদ্যোগ শুধু সড়কের সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষরোপণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি তৈরি করছে সবুজায়নের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ভেড়ামারা ব্রিজ এলাকায় সড়কের দুই পাশে চোখে পড়ে সারি সারি কৃষ্ণচূড়ার গাছ। ঋতুভেদে পাতার রং ও ফুলের সৌন্দর্যে বদলে যায় চারপাশের দৃশ্যপট। গাছের ছায়াঘেরা পথ ধরে চলতে গিয়ে অনেকেই থমকে দাঁড়ান। কেউ উপভোগ করেন প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, কেউ আবার মুঠোফোনে ধারণ করেন সুন্দর মুহূর্ত। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে সময় কাটাতেও আসছেন অনেকে।
শুধু কৃষ্ণচূড়া নয়, প্রকৌশলী বাদলের উদ্যোগে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ভেষজ গাছ। নিজের এলাকার রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণেও বৃক্ষরোপণ করেছেন তিনি। চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার সুযোগ হলেও গাছ লাগানোর প্রতি তাঁর আগ্রহ থেমে থাকেনি। সুযোগ পেলেই নিজের অর্থ ব্যয় করে গাছ লাগান তিনি।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের কিসামত বালুয়া গ্রামের বাসিন্দা শামীম প্রামাণিক বাদল বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। কর্মব্যস্ত জীবনের বাইরেও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন এই উদ্যোগ।
বাদলের কাছে বৃক্ষরোপণ নিছক শখ নয়; বরং পরিবেশের জন্য কিছু করার দায়িত্ববোধ। তাঁর বিশ্বাস, গাছ লাগানোর মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ানো সম্ভব, অন্যদিকে তেমনি তৈরি করা যায় ছায়াঘেরা পরিবেশ, রক্ষা করা যায় জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় রাখা যায় ইতিবাচক ভূমিকা।
এলাকায় গড়ে ওঠা সবুজ পরিবেশ এখন নজর কাড়ছে বিভিন্ন বয়সী মানুষের। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। আবার অনেকে ছবি তোলা, ভিডিও ও রিলস তৈরির মাধ্যমে স্মৃতি ধরে রাখছেন। একসময় সাধারণ সড়ক হিসেবে পরিচিত এই পথ এখন হয়ে উঠছে স্থানীয় মানুষের কাছে দৃষ্টিনন্দন একটি স্থান।
স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও দর্শনার্থীদের মধ্যেও বাদলের এই উদ্যোগ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তাঁদের প্রত্যাশা, গাছগুলো যথাযথ পরিচর্যায় বেড়ে উঠবে, আরও বিস্তৃত হবে সবুজের পরিসর। একই সঙ্গে এমন উদ্যোগ দেখে অন্যরাও নিজ নিজ বাড়ি, সড়কের পাশে ও খালি জায়গায় গাছ লাগাতে উৎসাহিত হবেন।
পরিবেশ রক্ষায় সব সময় বড় কোনো আয়োজন কিংবা বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন সদিচ্ছা, আন্তরিকতা আর প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা। প্রকৌশলী শামীম প্রামাণিক বাদল নিজের উদ্যোগে দেখিয়েছেন, একজন মানুষের ছোট ছোট প্রচেষ্টাও বদলে দিতে পারে চারপাশের দৃশ্যপট। তাঁর লাগানো গাছগুলো একদিন আরও বড় হবে, ছায়া দেবে পথচারীদের, সৌন্দর্য ছড়াবে চারদিকে। সেই সঙ্গে গড়ে উঠবে পরিবেশবান্ধব এক সবুজ পরিসর, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও হয়ে উঠতে পারে অনুপ্রেরণার উৎস।
একটি গাছ শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, বাঁচিয়ে রাখে প্রকৃতি ও জীবনের সম্ভাবনাও। ভেড়ামারা ব্রিজ এলাকার কৃষ্ণচূড়াঘেরা এই পথ তাই কেবল চলাচলের রাস্তা নয়; এটি প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা, পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার এবং সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শামীম প্রামাণিক বাদলের এই উদ্যোগের মতো ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র সবুজে ভরে উঠুক গ্রাম, শহর ও জনপদ।



