‘এক জুনিয়রের ডাকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি তাহসিফ’

বাংলা টিভি ডেস্ক: বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি নিখোঁজ হওয়ার আগে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন। মা-বাবার জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় এক জুনিয়র সহকর্মীর ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মাকে জানিয়েছিলেন, কিছুক্ষণ কথা বলে ফিরে আসবেন। কিন্তু এরপর আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার। গভীর রাতে মাকে শেষবারের মতো মেসেজ পাঠান, ‘আম্মু, আমি আসছি।’ পরদিন নদী থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল।
তিনি জানান, নিখোঁজ হওয়ার দিন প্রায় পুরো সময়ই মায়ের সঙ্গে ছিলেন তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটাও করেন। সন্ধ্যার পর দীপ নামের এক জুনিয়র বাসার নিচে থেকে ডাক দিলে মাকে জানিয়ে বাইরে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার আর যোগাযোগ হয়নি।
তাহসিফের বাবা বলেন, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ছেলের কাছ থেকে ‘আম্মু, আমি আসছি’ লেখা একটি বার্তা পেয়েছিলেন তারা। কিন্তু এরপর আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পুলিশের মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন পরিবার। রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তাহসিফ আগে কখনো যাননি বলেও জানান তার বাবা।
চাকরিচ্যুতির বিষয়ে তাহসিফের বাবা জানান, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাকে বিমানবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। একই সময়ে আরও কয়েকজনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
এদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রেঞ্জের নৌ-পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, তাহসিফের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ সাউরি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নৌ-পুলিশ। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের এক আত্মীয়কে খবর দিয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
মরদেহ উদ্ধারের সময় তাহসিফের পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা ছিল। তার হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। তবে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে দেশত্যাগের ভিডিও তাহসিফ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।



