ভারত খুব শক্তিশালী দেশ, ‘ধুরন্ধর’ সিনেমা দেখলেই বুঝতে পারবেন: ভারতীয় মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ভারতের সামরিক ও গোয়েন্দা সক্ষমতার পক্ষে কথা বলেছেন অরুণাচল প্রদেশের মন্ত্রী বালো রাজা। ভারতকে শক্তিশালী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দেশটির গোয়েন্দা সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। নিজের বক্তব্য বোঝাতে বলিউডের গোয়েন্দা-থ্রিলার সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ দেখার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) প্রধান শত্রুজিৎ সিং কাপুরের বক্তব্য ঘিরে বিতর্কের পর মন্ত্রী বালো রাজা এ মন্তব্য করেন।
গত মঙ্গলবার ইটানগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নগরবিষয়ক, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক এই মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কেন এমন বক্তব্য দেবেন, যাতে ভারতকে দুর্বল মনে হতে পারে।
বালো রাজা বলেন, ‘আপনি যখন মহাপরিচালক, তখন এ ধরনের বক্তব্য দেবেন কেন? নিজেকে দুর্বল ভাবছেন কেন? ভারত খুব শক্তিশালী। আপনারা নিশ্চয়ই ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটি দেখেছেন। সিনেমাটি দেখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন ভারতের গোয়েন্দা সক্ষমতা কতটা বেড়েছে।’
এর আগে গত ২২ অক্টোবর রাজস্থানের আলওয়ারে এক অনুষ্ঠানে আইটিবিপি সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন বাহিনীর প্রধান শত্রুজিৎ সিং কাপুর। সেখানে ভারত-চীন সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীর নতুন গঠিত ‘শৌর্য’ কমান্ডো দলগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহারের পাশাপাশি ড্রোন যুদ্ধের মতো পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন কাপুর। তার বক্তব্যে চীনকে ভারতের অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং প্রচলিত যুদ্ধকৌশলের পাশাপাশি নতুন ধরনের প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
কাপুরের বক্তব্যের পর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সেখানে সংঘাতের কারণ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন বিরোধী নেতারা।
এদিকে, অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় চীনা সেনাদের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত থাকার বিষয়ে প্রকাশিত বক্তব্য নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে।
মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, চীনা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত টহলপদ্ধতি থেকে সরে এলে ভারত-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় মাঝেমধ্যে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সীমান্তের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে দুই দেশ কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ের বিদ্যমান যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করছে।
মুখপাত্র আরও বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা সম্পর্কে দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা চলছে। ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এই বিতর্কের মধ্যে বালো রাজার মন্তব্য ভারতের সামরিক ও গোয়েন্দা সক্ষমতা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনাকে আরও সামনে এনেছে। তবে ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার উল্লেখ ছিল তার বক্তব্যের অংশ; সিনেমাটি নিজে কোনো দেশের প্রকৃত গোয়েন্দা সক্ষমতার স্বাধীন প্রমাণ নয়।



