আন্তর্জাতিকইন্ডিয়া

ভারতে বিএসএফ সদস্যদের রাস্তায় ফেলে পেটাল গ্রামবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) রাজ্যের কালামচৌড়া থানার আওতাধীন আশাবাড়ি এলাকায় এ সংঘর্ষে বিএসএফের তিন সদস্যসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক স্থানীয় বাসিন্দাকে বিএসএফ সদস্যদের মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে আশাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে নূতনবাজার সড়কসংলগ্ন এলাকায় জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ করছিলেন বিএসএফ সদস্যরা। এ সময় সন্দেহের ভিত্তিতে হেফজুর রহমান নামে এক স্থানীয় বাসিন্দাকে আটক করা হয়। তিনি শাহজাহান মিয়ার ছেলে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, আটকের পর হেফজুর রহমানকে মারধর করেন বিএসএফ সদস্যরা। এতে তার একটি পা ভেঙে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা নূতনবাজারের কাছে আশাবাড়ি-রহিমপুর সড়ক অবরোধ করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এদিকে অবরোধ চলাকালে রহিমপুর থেকে বক্সনগরের দিকে যাচ্ছিল বিএসএফের ৪৯তম ব্যাটালিয়নের একটি গাড়ি। গাড়িটিতে কোম্পানি কমান্ডার রোহিত, চালক সুনীল কুমার এবং মনজিৎ নামে আরেক বিএসএফ সদস্য ছিলেন। পথে বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ত্রিপুরা টাইমসের প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা লাঠি ও বাঁশ নিয়ে বিএসএফের গাড়িতে থাকা সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এতে তিনজনই আহত হন।

খবর পেয়ে আশাবাড়ি সীমান্ত চৌকির বিএসএফ সদস্য এবং কালামচৌড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত বিএসএফ সদস্যদের প্রথমে বক্সনগর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের আগরতলার ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ ও ডা. বিআরএএম টিচিং হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংঘর্ষের পেছনের প্রকৃত কারণ এবং এতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

তবে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও আশাবাড়ি এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button