ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, কবিরাজের বিরুদ্ধে মামলা

বাংলা টিভি ডেস্ক: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসার কথা বলে এক অসুস্থ কিশোরীর সঙ্গে প্রতারণা, বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে তাইজুল ইসলাম মুসা নামে এক কথিত কবিরাজের বিরুদ্ধে। ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই কিশোরী ও তার মাকে ব্ল্যাকমেইল এবং হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে।
এমনকি কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে তাকে বিয়ে না করার কথা জানানো এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় কিশোরীর সৎবাবা মেহেদী হাসান রিয়াজ গত ৩১ অক্টোবর কলাপাড়া থানায় নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। সোমবার (২ নভেম্বর) বিষয়টি জানাজানি হয়। মামলায় তাইজুল ইসলাম মুসাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি তার স্ত্রী ফাহিমা বেগমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম মুসা উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মনসাতলী এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসার মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর সৎবাবা কর্মসূত্রে বরিশালের রূপাতলী এলাকায় থাকেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী ও কিশোরী মেয়ে কলাপাড়া পৌরসভার নাচনাপাড়া মদীনাবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। কিশোরী রিয়াজের প্রথম স্ত্রীর সন্তান। প্রায় ১৪ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই তিনি সৎমায়ের সঙ্গে কলাপাড়ায় থাকছেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, কিশোরী অসুস্থ থাকায় পরিবার বিভিন্নভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করছিল। এ সময় পূর্বপরিচিত অসিম গাজীর মাধ্যমে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসার নামে কিশোরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন মুসা। একপর্যায়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন।
পরবর্তীতে ধারণ করা ভিডিও দেখিয়ে কিশোরীকে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে মামলায়। একপর্যায়ে বিয়ের বিষয়ে মুসা ও অসিমের কাছে জানতে চান কিশোরী ও তার মা। তখন অভিযুক্তরা ভিডিওগুলো মোবাইল ফোন থেকে পেনড্রাইভে সংরক্ষণ করে কিশোরীর বাড়িতে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে বিষয়টি গোপন রাখতে কিশোরী ও তার মাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অন্যথায় অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এতে পরিবারটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছেন কিশোরীর সৎবাবা।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এর আগেও মুসার বিরুদ্ধে নারীদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত কবিরাজ মুসার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে পরে সরাসরি যোগাযোগ করবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত মুসার বিরুদ্ধে তার তৃতীয় স্ত্রীর দায়ের করা আরেকটি মামলাও রয়েছে। এছাড়া কিশোরীর মায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু আপত্তিকর ভিডিও পুলিশের হাতে এসেছে। সেগুলো যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



