গাজীপুরে এনসিপির আয়োজিত গায়েবানা জানাজায় ধাওয়া

বাংলা টিভি ডেস্ক: গাজীপুর মহানগরীর বাংলাবাজার এলাকায় পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় গায়েবানা জানাজার আয়োজন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধাওয়া ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরের দিকে মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, পোশাকশ্রমিক তৌফিকের মৃত্যুর প্রতিবাদ এবং তাঁর ঘটনায় বিচারের দাবিতে বুধবার দুপুর ১২টায় চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি ঘোষণা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক আলী নাসের খান।
পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হন। সেখানে গায়েবানা জানাজার ব্যানার নিয়ে প্রথমে বক্তব্য দেন এনসিপি ও শ্রমিক শক্তির কয়েকজন নেতা। তাঁদের বক্তব্য শেষে আলী নাসের খানও উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কথা বলেন।
তবে তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর জানাজা না পড়ে মোনাজাত শুরু করা হয়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাঁদের সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। একপর্যায়ে ধাওয়া ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে আলী নাসের খান অভিযোগ করেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। পোশাকশ্রমিক তৌফিকের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশের অভিযানে জাতীয় শ্রমিক শক্তির সভাপতি এবং এনসিপির গাজীপুর জেলা কমিটির নেতাসহ অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন আলী নাসের খান।
অন্যদিকে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুনর রশীদ বলেন, এনসিপির নেতাকর্মীরা চান্দনা চৌরাস্তার মূল সড়কে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করতে চেয়েছিলেন। এ সময় তাঁদের পাশের কোনো মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ কিংবা খেলার মাঠে কর্মসূচি পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা সেই নির্দেশনা মানেননি। পরে যান চলাচল ও জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে পুলিশের এই অভিযানে কেউ আহত হননি বলে দাবি করেন ওসি।



