দেশবাংলা

স্বাভাবিক জীবনে ফেরা হলো না শারমিনের

স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদ আর অভাবের তাড়নায় অন্ধকার জীবনের পথ বেছে নিয়ে ছিল শারমিন। কিন্তু এই পথ তার ভালো লাগতো না। এক পর্যায়ে একটি মাস্ক তৈরির কারখানায় কাজ নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখে সে। কিন্তু দুর্বৃত্তরা শারমিনের ভালো হয়ে যাওয়া মেনে নিতে পারেনি।

কৌশলে তাকে ডেকে নিয়ে প্রথমে চার জনে মিলে ধর্ষণ করে। তারপর একজন হাত বেঁধে ফেলে ওড়না দিয়ে। আরেকজন পা চেপে ধরে থাকে শক্ত করে। অপরজন গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য কোমর থেকে তারা চাপাতি বের শারমিনের গলা কেটে দেয়। তারপর পরনের জামাটি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে রেখে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (৬ জুন), রাজধানীর উত্তরখান থানার বৈকাল রোড এলাকায়। পুলিশ নিহত শারমিনের লাশ উদ্ধারের পর প্রথমে তার পরিচয় শনাক্ত করে। এরপর অভিযান চালিয়ে একে একে গ্রেফতার করে চার ধর্ষক-খুনিকে। এদের মধ্যে দু’জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার উত্তরখান থানার বৈকাল রোডের একটি নির্জন এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর দেওয়া হয় সিআইডির ক্রাইম সিনকে। সুরতহাল সম্পন্ন করে লাশ পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। সেখানে শারমিনের পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। এরপর শুরু হয় তদন্ত।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি দক্ষিণখান) হাফিজুর রহমান রিয়েল জানান, লাশ উদ্ধারের পরপরই গুরুত্ব দিয়ে খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু হয়। টানা অভিযানে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে মাসুদ, ফুরকান, আনোয়ার ও সাইফুল নামে চার খুনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে ফুরকান ও সাইফুল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বাকি দুজনকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button