দেশবাংলা

থানায় অবস্থান নিয়েও আইনী সহায়তা মেলেনি গৃহবধুর

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় স্বামী নির্যাতনের শিকার হয়ে এক গৃহবধু আইনি সহয়াতার জন্য গিয়েছিলেন বাউফল থানায়। দিন-রাত অপেক্ষা করেও ওই গৃহবধু কোন আইনি সহায়তা না পেয়ে তার শিশু সন্তান নিয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

ওই গৃহবধুর নাম জোসনা বেগম (২২)। জোসনা ঢাকার মেঘনা এলাকার আবদুর রহিম বাদশার মেয়ে। গহবধু জোসনা অভিযোগ করে বলেন, চার বছর আগে বাউফল উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের জালাল মাতব্বরের ছেলে সিদ্দিক মাতব্বরের সাথে তার পরিচয় হয়। সিদ্দিক ওই সময় পেশায় ঢাকায় গাড়ির চালক ছিলেন।

এক পর্যায়ে তাদের সাথে পরিচয় হয়, পরিচয় থেকে প্রেম এরপর উভয়ের সম্মতিতে বিয়ে হয় তাদের। বছর দুইয়েক পড় তাদের কোল জুড়ে আসে এক কন্যা শিশু। বিয়ের পর জোসনা জানতে পারেনে, তার স্বামীর আরেক স্ত্রী আছে। তারা একই সাথে চার বছর ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

গত ৭-৮ দিন আগে তার স্বামী সিদ্দিক মাতব্বর তাকে রেখে বাড়ি চলে যান। এরপর স্বামীর মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে সম্ভাব্য সকল স্থানেই খোঁজ নিয়ে কোথাও না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। এরপর নিরুপায় হয়ে অবুঝ সন্তান নিয়ে ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে শুক্রবার সকালে বাউফল এসে সূর্যমনি ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়ি যান।

সেখানে যাওয়া মাত্রই তাকে দেখে স্বামী ও তার সতিন (প্রথম স্ত্রী) ও ভাসুর মোসলেম মাতব্বর তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে। এক পর্যায়ে স্বামী তাকে বেধড়ক মারধর করে। পরে স্থানীয় মমিন উদ্দিন নামের এক চৌকিদার তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। শনিবার দুপুরে নির্যাতিত জোসনা স্বামী সিদ্দিক মাতুব্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে বাউফল থানায় গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার কোন অভিযোগ আমলে নেয়নি। নিরুপায় হয়ে তিনি ওই দিন রাতে থানার বরান্দায় শিশু সন্তান নিয়ে রাত কাটান।

জোসনা আক্ষেপ করে বলেন, থানার এক স্যার (তদন্ত ওসি আল মামুন) রাতে তার ও তার শিশু সন্তানের খাবার ব্যবস্থা করেন। রবিবার দুপুর পর্যন্ত তিনি থানায় অবস্থান নিলেও ওসি মোস্তাফিজুর রহমান তাকে কোন আইনী সহায়তা প্রদান করেননি। বরং ওসি তাকে থানা থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

রবিবার দুপুরে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীকে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,‘ জোসনা বেগম এর আগেও এ বিষয় নিয়ে থানায় কয়েকবার এসেছিলেন। আবার স্বেচ্ছায় স্বামীর কাছে চলে গিয়েছেন। তিনি কখনই লিখিত অভিযোগ দেয়নি।তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকাল ৫টা) জানা গেছে, জোসনা এখনো তার স্বামীর বাড়ি যায়নি।

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button