আন্তর্জাতিক

জামাল খাশোগি হত্যার দায় সৌদি সরকারের: নিকি হ্যালি

জাতিসংঘে আমেরিকার পদত্যাগকারী প্রতিনিধি নিকি হ্যালি শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের দায় সৌদি সরকারের ওপর বর্তায়। এমন সময় তিনি এ কথা বললেন যখন ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা খাশোগি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জড়িত থাকার বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করে আসছেন।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কন্স্যুলেটে সৌদি সরকার বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের দুই মাস পর বিশ্বের দেশগুলো সৌদি আরবের মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও এবং এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় যুবরাজ সালমানের হাত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তারা এখনো সালমানকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করছেন এবং তার প্রতি সমর্থন দিচ্ছেন।

সাংবাদিক জামাল খাশোগি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নীতির কট্টর সমালোচক ছিলেন এবং এ কারণে সৌদি সরকার তাকে আটক করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তিনি গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কন্স্যুলেটে প্রবেশ করেন এবং আর কখনোই সেখান থেকে বের হয়ে আসেননি। সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর ১৮দিন পর্যন্ত নীরব থাকার পর শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সৌদি সরকার খাশোগির নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে।

সাংবাদিক হত্যা এবং দেশের ভেতরে ও বাইরে বিরোধীদের দমনে সৌদি সরকারের নীতি ও সেইসাথে ইয়েমেনে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত থাকায় বিশ্বের মানবাধিকার কর্মীরা সৌদি সরকার বিশেষ করে যুবরাজ সালমানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ওই দেশটিতে অস্ত্র বিক্রি বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু তারপরও মার্কিন কর্মকর্তারা সৌদি যুবরাজ সালমানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে রাজি নন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিছুদিন আগে বলেছেন, খাশোগি হত্যার সঙ্গে যদি সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তবুও সৌদি আরব আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবেই টিকে থাকবে।

প্রকৃতপক্ষে, একদিকে, আমেরিকার সঙ্গে সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ আর্থ-রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং যুবরাজ সালমানকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা এবং কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি অন্যদিকে ওয়াশিংটনে সৌদি লবিং গ্রুপের তৎপরতা ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের কারণে মার্কিন কর্মকর্তারা খাশোগি ইস্যুতে যুবরাজ সালমানের অপরাধকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। এ কারণে সাংবাদিক খাশোগি হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আমেরিকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি উঠলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও রাষ্ট্রদূতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

যাইহোক, জাতিসংঘে আমেরিকার পদত্যাগকারী প্রতিনিধি নিকি হ্যালি সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের দায় সৌদি সরকারের ওপর বর্তায় বলে যে মন্তব্য করেছেন তাতে বোঝা যায় মার্কিন কর্মকর্তারা বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদিও খাশোগি হত্যাকাণ্ডে যুবরাজ সালমানের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছেন কিন্তু তারপরও তিনি মার্কিন স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন দিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close