আওয়ামী লীগবাংলাদেশ

সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৪৯তম জন্মদিন আজ

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর  সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৪৯তম জন্মদিন আজ

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই ঢাকায় পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনার প্রথম সন্তান জয়ের জন্ম। নানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রিয় এই নাতির নাম রাখেন জয়।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মায়ের সঙ্গে বাবার কর্মস্থল জার্মানি হয়ে ভারতে যান সজীব ওয়াজেদ জয়। তার শৈশব-কৈশোর কাটে সেখানেই। নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক পাস করেন তিনি। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর অর্জন করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদে দলীয় কার্যক্রমে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত না হলেও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে সরকার গঠন করার পর থেকে আজ অবধি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জয় রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি দলীয় রাজনীতিতে আসেন। নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন ও দেশের বিভিন্ন এলাকা সফরের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও বেশ ভালো প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম হন।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে দায়িত্বশীল পদপ্রাপ্তি নিয়ে গুঞ্জন ছিল। কিন্তু সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে অনীহা প্রকাশ করেন তিনি।

এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার পেছনে নেপথ্য কারিগর হিসাবে দেশে-বিদেশে সুনাম ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র জয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম কর্তৃক গ্লোবাল লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন জয়। সেই থেকে জনগণের দোরগোঁড়ায় তথ্য-প্রযুক্তির সেবা হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার অভিপ্রায়ে কখনো দেশে, কখনো বিদেশে অবস্থান করে কাজ করছেন তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জয়।

২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয়কে অবৈতনিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারের পাশাপাশি দলীয় ঘরানা ছাড়াও তথ্য-প্রযুক্তি, রাজনীতি, সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা-বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

দেশ গঠনে তরুণদের মতামত, পরামর্শ শুনতে ‘লেটস টক’ ও ‘পলিসি ক্যাফে’ দুটি কর্মসূচি এরইমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। এছাড়াও তরুণ উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বকে একসঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত করতে তরুণদের বৃহত্তম প্ল্যাটফর্ম ‘ইয়াং বাংলার’ সূচনা করেন তিনি। বর্তমানে বেশির ভাগ সময়েই দেশের বাইরে অবস্থান করলেও জাতীয় রাজনীতি ও সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঝে মাঝে ফেসবুকে মতামত ব্যক্ত করেন।

চলতি ১৭ জুলাই মাসে বিকেলে আগারগাঁও তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে নাগরিকদের পরিচয় শনাক্তকরণের সেবা সার্ভিস ওয়েবসাইট এর উদ্বোধন করেন জয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জয় বলেন, ‘মানুষের জীবনকে সহজ করার জন্য আমাদের টার্গেট প্রায় ৯০ শতাংশ সরকারি সেবা মোবাইলে থাকবে, আঙুলের সঙ্গে থাকবে। সাধারণ নাগরিকদের জীবনের সহযোগিতা করে সময় বাঁচানোর কাজ, এটাই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের মিশন।’

আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিশনটি শুধু ২০২১ সালে শেষ না। আমরা প্ল্যানিং করছি আগামী ১৫ বছর।

বাংলাটিভি/শহীদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button