
নিজস্ব প্রতিবেদক : জলবায়ু পরিবতর্নের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলার করে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাটের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ১ দিনের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে ১ লাখ ৫ হাজার গাছ রোপণ করেছে। এ উপলক্ষে রবিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও বাঘা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আলাদা দুটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জলবায়ু পবির্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার প্রত্যেয়ে ২০১৫ সাল থেকে উদ্যোমী তরুণ জুবায়ের আল মাহমুদ রাসেল নিজের উদ্ভাবিত থিম ‘১ দিনের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে গাছ রোপণ’ আন্দোলন শুরু করেন। গত চার বছরে এই আন্দোলনে সারা দেশের ৭৫০টি স্কুলের লাখো শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
এরমধ্যে রাজশাহীর বাঘা-চারঘাট, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোরের বড়াইগ্রাম, সিলেটের বিয়ানীবাজার এবং খুলনার দিঘলীয় উপজেলার শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। গত চার বছরে এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রায় আড়াইলাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। এ বছর আজ ১ লাখ ৬ হাজার গাছ রোপণ করেছে বাঘা চারঘাটের শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে গত ৫ বছরে গাছের সংখ্যা দাঁড়ালো সাড়ে তিন লাখ।
অনুষ্ঠানে জুবায়ের আল মাহমুদ জানান, আগামী ২ অক্টোবর পাবনার ঈশ্বরদী এবং নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার শিক্ষার্থীরা একযোগে আরও ১ লাখ গাছ রোপণ করবে। এছাড়া সিলেটের বিয়ানীবাজার ও খুলনাল দিঘলীয়া উপজেলায় স্কুলব্যাপী বৃক্ষরোপণ চলছে। জুবায়ের বলেন, ‘প্রতিবছর বিছিন্নভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হলেও এবারই প্রথমবারের মতো ‘বিশ্ব ওজন দিবস’ উপলক্ষে বাঘা-চারঘাটের শিক্ষার্থীরা অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য যে লাখো গাছ রোপণ করল, তা বিশ্বে বিরল।
তিনি আরও বলেন, ‘ আমি মনেকরি বাংলাদেশের ৫ কোটি শিক্ষার্থীকে নিয়ে যদি বছরের নির্দিষ্ট একটি দিনে বৃক্ষরোপণ করা যায়, তাহলে খুব সহজে বাংলাদেশ সবুজে পরিণত হবে এবং এই আন্দোলন যদি জাতিসংঘের উদ্যোগে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়া যায়, তাহলে খুব সহজে সারাপৃথিবী বিশাল এক অরণ্যে পরিণত হবে।’ তিনি জাতীয়ভাবে বৃক্ষরোপণের জন্য ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ দিবস’ ঘোষণা করে বাংলাদেশের সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে বৃক্ষরোপণের দাবী জানান।

চারঘাটের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপিিতত্ব করেন চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন। বাঘার বৃক্ষরোপণ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলু।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা। অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের উপকারিতা সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন বক্তরা।
চারঘাটে উপজেলা চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরা গাছগুলো বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রোপণ করবে এবং যত্ন করবে যেন গাছগুলো তোমাদের সাথেই বেড়ে ওঠে।’
চারঘাটের ইউএনও বলেন, চারঘাটের শিক্ষার্থীরা নিজেদের একদিনের টিফিনের টাকায় ৫৬ হাজার গাছ রোপণ করেছে। তিনি জানান, তার উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে আজ বৃক্ষরোপণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাঘার অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলু শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন, তোমরা আজ পৃথিবীর বুকে ইতিহাস তৈরি করলে। প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট দিনে এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম যেন অব্যাহত থাকে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বাঘার ইউএনও শাহিন রেজা বলেন, জুবায়েরের এই আন্দোলন অত্যান্ত যুগোউপযোগী, শিক্ষার্থীরা যেভাবে এভাবে প্রত্যেকে একজন একটি গাছের দায়িত্ব নেয়, তাহলে গাছের প্রতি তার ভালোবাসা দায়িত্ববোধ যেমন তৈরি হবে, তেমনি দেশের ২৫ ভাগ বনভূমি ও সুনাগরিক হতেও সাহায্য করবে। আমরা এখনই যদি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশক বাঁচাতে এগিয়ে না আসি তাহলে আমাদের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।
এর আগে গত ১২ জানুয়ারি প্রথম আলোর ছুটির দিনে ‘এক জুবায়ের লাখো গাছ’ শিরোনামে একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
বাংলাটিভি/ এসনূর



