সাপাহার বরেন্দ্র এলাকাকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা

আশরাফুল নয়ন, নওগাঁ : নওগাঁর সীমান্তবর্তী উপজেলা সাপাহার বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত। গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উপজেলাকে অর্থনৈতিক অঞ্চল এর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। আর এতে উপজেলায় এক নতুনদ্বার উন্মোচন হতে চলেছে। উপজেলা সদরের খেড়ুন্দা মৌজায় সাপাহার-খঞ্জনপুর বিওপি ক্যাম্প রাস্তার উত্তর পাশে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যদিয়ে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।
নওগাঁর সীমান্তবর্তী ৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সাপাহার উপজেলায় প্রায় ২ লাখ মানুষের বসবাস। বরেন্দ্রভূমি হিসেবে পরিচিত এ উপজেলার প্রধান অর্থকরী ফসল ধান, গম ও আম। পানির সমস্যা থাকায় এসব এলাকায় বছরে বৃষ্টি নির্ভর একটিমাত্র ফসল আমন ধানের ওপর নির্ভরশীল। তবে শুধু ধানের ওপর নির্ভর না করে এখন চাষীরা ঝুঁকেছেন আম চাষের দিকে।
ইতোমধ্যে এ উপজেলা আমের রাজধানী হিসেবেও বেশ পরিচিতি পেয়েছে। ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সারাদেশে ১শ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী সাপাহার উপজেলাকে সেই অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে অনুমোদন দেন। তবে অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থলবন্দরের দাবী জানিয়েছে স্থানীয়রা।
এ অনুমোদন পাওয়ায় রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা জিরোপয়েন্টে এক আলেচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদ, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ নির্বাহী সদস্য হারুনুর রশিদ, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপিত আব্দুল মালেকসহ অন্যরা।
এ উপজেলায় ২শ ৫৪ দশমিক ১৫ একর জমির ওপর অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠবে। এরমধ্যে ২২ একর সরকারি জমি রয়েছে। বাকি জমির অধিগ্রহনের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।
অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে সাপাহার উপজেলা ছাড়াও এর আশপাশে বিভিন্নর উপজেলার উন্নয়ন ঘটবে এবং লক্ষাধিক বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি আরো সমৃদ্ধ হবে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাটিভি/ নূর



