অন্যান্যবাংলাদেশ

ক্যাসিনো নিয়ে যত কথা

বুলবুল আহমেদে : সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত শব্দ ক্যাসিনো। কী আছে এই ক্যাসিনোতে? যার নেশায় মত্ত হয়ে মানুষ ছুটে চলে দেশ থেকে দেশান্তরে! এর উৎপত্তিই বা কবে, কোথায়, কীভাবে তা নিয়ে এখন দেশজুড়ে চা-য়ের কাপে ঝড় তুলছে! বিশ্বজুড়ে প্রচলিত এই বিলাসী খেলায় রাতারাতি কোটিপতি বনে যাচ্ছেন কেউ, আবার কেউ বা হচ্ছেন রাস্তার ভিখিরি। জেনে নিন ক্যাসিনোর আদ্যোপান্ত।

ক্যাসিনো হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের জুয়া এক সাথে খেলার একটি নির্দিষ্ট স্থান যাকে বাংলায় জুয়ার আড্ডা বা আসর বলা যায়। কিন্তু সেটা হয় সুবিশাল পরিসরে। সাধারণত হোটেল, রেস্টুরেন্ট, শপিংমল, আনন্দভ্রমণ বা পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানে এসব স্থাপন করা হয়ে থাকে। কিছু ক্যাসিনোয় সরাসরি বিনোদন ব্যবস্থা, যেমন স্ট্যান্ডআপ কমেডি, কনসার্ট, খেলাধুলা ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকে।

এখন পর্যন্ত ক্যাসিনোর উৎপত্তির পুরো ইতিহাস জানা যায়নি। তবে মনে করা হয় পৃথিবীর শুরু থেকেই কম বেশি বাজি বা জুয়ার প্রচলন ছিল। জুয়া খেলাকে নিয়ন্ত্রণের জন্যই ইতালির ভেনিস শহরে ১৬৩৮ সালে সর্বপ্রথম ক্যাসিনো তৈরি করা হয়। তবে সামাজিক অবক্ষয়ের কথা ভেবে ১৭৭৪ সালে তা বন্ধ করে দেয়া হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ক্যাসিনোর নাম স্যালুন্স। যদিও এটি তৈরি করা হয়েছিল পর্যটক আকর্ষণের জন্য। এখানে জুয়ার সঙ্গে আড্ডা এবং বিভিন্ন পানীয়র ব্যবস্থাও থাকতো। তবে খুব অল্প সময়ে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে স্যান ফ্রান্সিকো, সেন্ট লুইস ও শিকাগোর মত শহরে। যা বিশ শতকের দিকে আমেরিকার সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৩১ সালে আমেরিকার নেভাদা রাজ্যে সর্বপ্রথম সরকার অনুমোদিত ক্যাসিনো গড়ে ওঠে। বর্তমানে আটলান্টিক সিটি আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্যাসিনো শহর।

আর ক্যাসিনোর প্রসঙ্গ উঠলেই যে শহরটির নাম চোখে ভাসে, সেটি হলো সিন সিটি লাসভেগাস। পৃথিবীর সবচে বড় জুয়ার আসর এটি। এ ছাড়াও বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে অসংখ্য ক্যাসিনো রয়েছে- যেখানে জুয়ার নেশায় মেতে থাকেন গ্রাহকরা। আমেরিকা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, নেপালসহ অসংখ্য দেশে গড়ে উঠেছে ছোটবড় এসব টাকা ওড়ানোর আসর।

ক্যাসিনোতে গ্রাহকরা তাদের পছন্দমতো বিভিন্ন খেলার সুযোগ পান। তবে যিনি যে বিষয়ে পারদর্শী, সেটিই তিনি খেলার চেষ্টা করে থাকেন। এসবের মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাকজ্যাক, ভিডিও পোকার, ব্রাক্যারেট, ক্রাপ ও রুলেট নামক বেশকিছু জনপ্রিয় ইভেন্ট। এসব খেলায় গাণিতিকভাবে খেলোয়াড়ের পক্ষে কিছু যুক্তি দেখানো হয়, যাতে তার জেতার সম্ভাবনা থাকে। মূলত এটাই একজন খেলোয়াড়কে বেশি সময় ধরে রাখে। কারণ তিনি ধরেই নেন, এ খেলায় তার জেতার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি এশিয়ার কয়েকটি দেশেও এই আধুনিক জুয়ার প্রচলন শুরু হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, নেপাল ভারত চীন সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া। বালক থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সী মানুষের দেখা মেলে এসব ক্যাসিনোতে। কোটি কোটি টাকা উড়িয়ে এখানে মনোরঞ্জনে আসেন ধনাঢ্য ব্যক্তিরা। এশীয় উপমহাদেশের সবচে বড় জুয়ার আসরগুলো বসে নেপালের কাঠমান্ডুতে।

জুয়া বাংলাদেশে একটি পরিচিত শব্দ হলেও, ক্যাসিনোর ইতিহাস খুব বেশি পুরনো নয়। সাম্প্রতিককালে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিশেষত ক্লাবপাড়াগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্যাসিনো চালানোর গুঞ্জন রটে। এরই প্রেক্ষিতে, অভিযানে নামে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। রাজধানীর ফকিরাপুলে ইয়ংমেন্স ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ও বনানীতে কয়েকটি ক্যাসিনোর সন্ধান পাওয়া যায়।

বলা হচ্ছে, ২০১৭ সাল থেকে এসব ক্যাসিনো চালু হয়েছে বাংলাদেশে। বর্তমানে খোদ রাজধানীতেই ৫০টিরও বেশি ক্যাসিনোর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যেখানে জুয়ার পাশাপাশি, নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও হদিস মেলে।

বাংলাটিভি/ নূর

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button