আওয়ামী লীগরাজনীতি

আজ সৈয়দ আশরাফের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

আওয়ামী লীগের দুই মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ সন্তান সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (শুক্রবার)।

২০১৯ সালের এই দিনে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে বনানী কবরস্থানে তার কবরে শ্রদ্ধা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ সময় তিনি বলেন, সৈয়দ আশরাফের বিনয় ও সততা রাজনীতিবিদদের জন্য অনুসরণীয়। পরে, দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন কাদের।

সৈয়দ আশরাফ বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর মতো সৎ-আদর্শিক রাজনীতিবিদ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ১৯৫২ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। পঁচাত্তরের ৩ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর, প্রবাস জীবন বেছে নেন সৈয়দ আশরাফ।

পরে, ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে অন্ধকার কেটে আলোর দিকে যাওয়ার লড়াইয়ে শেখ হাসিনার সহযাত্রীতে পরিণত হন সৈয়দ আশরাফ। সংকটে তিনি ছিলেন শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত সহকর্মী।

ওয়ান-ইলেভেন ও হেফাজতের আন্দোলনের মতো বড় বড় সংকটকালে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সৈয়দ আশরাফ। ফলে বাবার পরিচয় ছাপিয়ে নিজ পরিচয়ে ভাস্বর হয়ে ওঠেন টানা ৫ বারের এই সংসদ সদস্য। সাবেক এই সাধারণ সম্পাদকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনগুলো।

শুক্রবার সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বনানী কবরস্থানে তার কবরে শ্রদ্ধা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময়, দলীয় নেতাকর্মীদের সৈয়দ আশরাফের নীতি আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।

ক্ষমতায় থেকেও ক্ষমতার মোহ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা এই প্রবাদ পুরুষ বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবেন বলে মনে করেন তার অনুসারীরা।

মাসুদ সুমন, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button