দেশবাংলা

বিভিন্ন জেলায় ক্রমেই বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা

দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্রমেই বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ও মৃতের সংখ্যা। ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। মহামারী করোনাভাইরাসে নওগাঁর রানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক সেবিকা আক্রান্ত হয়েছেন। ঘটনার পর জেলাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি বর্তমানে বাসায় কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

ভোলার বোরহানউদ্দিন ও মনপুরা উপজেলায় এক শিশু এবং এক যুবকের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। গতরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন, ভোলা সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী। খুলনার রুপসা উপজেলায় নতুন করে এক স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষার পর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এ নিয়ে খুলনায় ৩ ডাক্তারসহ ৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া, করোনা আক্রান্ত খুলনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা: মাসুদ আহম্মেদকে গতকাল রাতে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনার পর, তাঁকে মুগদা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামের এক তরুনের শরীরে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। গতকাল দুপুরে তাকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রামের ১৫০টি বাড়ী লকডাউন করা হয়েছে।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন উপজেলায় ২ দিনে নতুন করে আরো ৮ জন রোগীর করোনা শনাক্ত হওয়ায়, এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ২১জনে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, আক্রান্তদের জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ভবনের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। তাদের বাড়িঘরসহ আশপাশের বাড়িঘর লকডাউন করা হয়েছে।

বরিশালে গত ২৪ ঘন্টায় ১ নারীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এই নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৪ জনে। এদিকে, বরিশালে গত কয়েকদিনে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও ছাত্রসহ ১০ জন কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৩ জনে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিৎ করেছেন ডাঃ মোমেনুল ইসলাম। এদিকে, গাজীপুরে গত ৪৮ ঘন্টায় নতুন ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ডাক্তার, নার্স,পুলিশ, সাংবাদিকসহ এখন পর্যন্ত ৩২০ জনের দেহে করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২ জন।

বগুড়ার সোনাতলায় এক ডাক্তার ও ঢাকা ফেরত এক মহিলা করোনা শনাক্তের পর, দুটি বাড়ি লকডাউন ও সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে লকডাউন ঘোষনা করেছে কর্তৃপক্ষ।  সোনাতলা উপজেলা স্বস্থ্য কমপ্লেক্স এর জরুরী সেবা ছাড়া সকল চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

মানিকগঞ্জে গত ২৪ ঘন্টায় আরো একজন চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি মানিকগঞ্জ কর্ণেল মালেক মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক।  এ নিয়ে মানিকগঞ্জে ২ জন চিকিৎসকসহ মোট ৯ জন করোনা রোগে আক্রান্ত হলেন। মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আখন্দ জানান, দুজন ডাক্তারই বর্তমানে ঢাকায় নিজ নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন।

বাংলা টিভি/রাসেল

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close