অন্যান্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়া

একটি জটিল নির্বাচনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। নির্বাচনে সাধারণ জনগণ ভোট দেন প্রার্থীদের। কিন্তু সরাসরি সেই ভোটে নির্বাচিত হন না কোনো প্রেসিডেন্ট।

প্রতি অঙ্গরাজ্যে যে প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পান, তিনি সবক’টি ইলেক্টোরাল কলেজ প্রতিনিধির ভোট পেয়ে যান। আর এই ইলেক্টোরাল কলেজ প্রতিনিধিদের ভোটেই নির্বাচিত হন প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট। আমিনা লুসির বিশেষ প্রতিবেদন। আজকেও প্যাকেজটি চালানোর নির্দেশনা আছে।

১৮৪৫ সাল। নভেম্বর মাসের প্রথম মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটের দিন স্থির করা হয়। শনিবার ফসলের মাঠে কাজ, রবিবারে চার্চ, বুধবার বাজারের দিন। তাই মঙ্গলবারকে ভোটের দিন হিসেবে বেছে নেয়া হয়।

চার বছর পর পর নির্বাচনে দেশটির প্রধান দুই দল থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া ককাসে ভোটের মাধ্যমে শুরু হয় নির্বাচনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া। সব প্রাইমারি ও ককাস মিলে যে ডেলিগেটস নির্বাচিত হন তারা দলীয় কাউন্সিলে প্রেসিডেন্ট পদে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচিত করেন।

এরপর, দুই দলের প্রার্থীরা- প্রার্থী মনোনয়নে সম্মেলনের আয়োজন করেন। চার দিনের সম্মেলনে প্রার্থীকে বরণ করা হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘ইলেকটোরাল কলেজ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অঙ্গরাজ্যগুলোর জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা। মোট ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা হচ্ছে ৫৩৮। ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট কেলিফোর্নিয়ায় ৫৫টি।

সর্বনিম্ন আলাস্কাসহ ৮টি অঙ্গরাজ্যে ইলেকটোরাল কলেজ ভোট ৩টি করে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীকে অন্তত ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হয়। একেকটি অঙ্গরাজ্যের ইলেকটোরাল কলেজ রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের রায় অনুযায়ী ভোট দিয়ে থাকে।

সাধারণ ভোটাররা ইলেকটর নির্বাচন করে। কারণ কাগজে-কলমে ইলেকটরদের ভোটেই নির্বাচিত হন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট। ডিসেম্বরে ইলেকটররা নিজের পছন্দের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে আলাদা আলাদা ব্যালটে ভোট দেন।

ভোট গণনার জন্য কংগ্রেসে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আরকাইভে পাঠানো হয়। ৬ই জানুয়ারি কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ইলেকটোরাল ভোট গণনা শেষে ভোটের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়।

এরপর সিনেটের সভাপতি চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে বিজয়ী যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্টের নাম ঘোষণা করেন। ২০শে জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। সূত্র: সময় টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button