Uncategorized

দেশে ৬১ লাখ গাঁজাখোর! সংখ্যা হলেও সত্যি

সাম্প্রতিক গবেষণার ভিত্তিতে বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতির একটি ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই গবেষণার মূল তথ্যগুলো চমকে দেয়ার মতো।

বর্তমানে দেশে মাদক সেবনকারীর সংখ্যা আনুমানিক ৮২ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮%। মাদকের ধরন অনুযায়ী সেবনকারীদের একটি বড় অংশ গাঁজায় আসক্ত। তারমধ্যে গাঁজা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক (প্রায় ৬১ লাখ সেবনকারী)। অন্যান্যর মধ্যে আছে ইয়াবা, অ্যালকোহল, কফ সিরাপ এবং হেরোইন।

গবেষণায় দেখা গেছে, শতাংশের হিসেবে এবং সংখ্যার বিচারে মাদক সেবনের হারে ভিন্নতা রয়েছ।

সর্বোচ্চ হার (শতাংশে): ময়মনসিংহ (৬.০২%), রংপুর (৬.০০%) এবং চট্টগ্রাম (৫.৫০%) বিভাগ।

সর্বোচ্চ সংখ্যা: ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি মাদকসেবী বাস করেন (প্রায় ২২.৯ লাখ)।

মাদকাসক্তির এই ছোবল সবচেয়ে বেশি তরুণদের ওপর। গবেষণায় দেখা গেছে ৩৩% ব্যবহারকারী ৮-১৭ বছর বয়সেই মাদক শুরু করে। ৫৯% ব্যবহারকারী ১৮-২৫ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। মাদক গ্রহণের মূল কারণ: বেকারত্ব, পারিবারিক অস্থিরতা এবং মানসিক চাপ। এবং প্রায় ৯০% ব্যবহারকারীর মতে, মাদক পাওয়া এখন অত্যন্ত সহজ।

মাদক ছাড়তে চাইলেও পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে অনেকে সুস্থ জীবনে ফিরতে পারছেন না। মাত্র ১৩% মাদকসেবী চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের সুযোগ পেয়েছেন। বাকি ৬৯% ব্যবহারকারী পুনর্বাসন সুবিধা এবং ৬২% কাউন্সেলিং সেবা পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বিষয়টিকে কেবল আইনশৃঙ্খলা নয়, বরং একটি ‘জটিল জনস্বাস্থ্য সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সরকার ইতিমধ্যে ৭টি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর অনুমোদন দিয়েছে। এবং
পারিবারিক সচেতনতা এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদক নির্মূলের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button