Uncategorized

বলিউডি কায়দায় ভারতের কারাগারে কাটল পাকিস্তানি নাগরিকের দুই যুগ

একটি সাধারণ শিকারের নেশা যে কারো জীবন থেকে আড়াই দশক কেড়ে নিতে পারে, আসগর আলী তার জীবন্ত প্রমাণ। সীমান্তরেখা চিনতে না পেরে ভুল করে ভারতে প্রবেশ করতেই তাকে আটক করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। শুরু হয় এক দীর্ঘ আইনি ও মানসিক যুদ্ধ।

আসগর আলীর কারাবাস কেবল একটি সাজা ছিল না, ছিল একের পর এক মামলার বেড়াজা। অনুপ্রবেশের পর তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও গুপ্তচরবৃত্তির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এবং ২০১০ সাল পর্যন্ত তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সাজা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় নতুন মামলা। আসগরের দাবি, জেলখানায় বন্দি থাকা অবস্থাতেই তাঁকে একটি সাজানো হামলার পরিকল্পনায় জড়িয়ে সাজা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

অবশেষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে দীর্ঘ শুনানির পর আদালত তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে মুক্তির নির্দেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তিনি কেবল পরিস্থিতির শিকার ছিলেন।
আসগর আলী বলেন, “আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে যে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। স্রেফ পথ ভুলে সীমান্ত পার হওয়ার জন্য আমার জীবনের সব মামলা ছিল মিথ্যা।”

দীর্ঘ ২৫ বছর পর নিজ ভূমি সাদিকাবাদে পা রাখলে এলাকাবাসী তাঁকে অশ্রুসিক্ত চোখে ও উষ্ণ সংবর্ধনায় বরণ করে নেয়। একটি ভুল আর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে আসগর এখন নিজ পরিবার ও স্বজনদের মাঝে।

 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button