আন্তর্জাতিকঅন্যান্যযুক্তরাষ্ট্র

জি/হা/দি দমনে নাইজেরিয়ায় ২০০ সেনা মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র

জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র ২০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ইউএস আফ্রিকা কমান্ডের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই সেনাদল দেশটিতে আগে থেকেই অবস্থানরত একটি ছোট মার্কিন দলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। বর্তমানে থাকা দলটি মূলত বিমান হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছানোর কথা থাকা অতিরিক্ত সেনারা নাইজেরিয়ান বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে। বিশেষ করে বিমান ও স্থল অভিযানের সমন্বিত পরিচালনায় তারা দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।

বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রশ্নের জবাবে ইউএস আফ্রিকা কমান্ডের মুখপাত্র প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরে নাইজেরিয়া কিছুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ‘নির্যাতন’ ও ‘গণহত্যা’র অভিযোগ তুলেছিলেন। যদিও আবুজা সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। স্বাধীন বিশ্লেষকদের মতে, সহিংসতার মূল কারণ হলো জিহাদি গোষ্ঠী ও সশস্ত্র দস্যুদের দমন করতে রাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতা; ধর্মীয় নিপীড়ন একমাত্র কারণ নয়। বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেটের হামলায় মুসলিমরাও ব্যাপকভাবে নিহত হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সামরিক সহযোগিতা জোরদারে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে নাইজেরিয়ার সহায়তায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সকোতো রাজ্যে জঙ্গি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বিমান হামলা চালানো হয়। মার্কিন বাহিনী গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং অস্ত্র ক্রয় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতেও সহায়তা করবে।

তবে ২০০ সেনা মোতায়েন করা হলেও তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের মুখপাত্র সামাইলা উবা। তার ভাষ্য, অতিরিক্ত সহায়তা নাইজেরিয়ার অনুরোধেই দেওয়া হচ্ছে।

আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জিহাদি বিদ্রোহের পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিমে অপহরণ ও সশস্ত্র দস্যুদের তৎপরতার মুখে রয়েছে। মধ্যাঞ্চলে খ্রিস্টান কৃষক ও মুসলিম ফুলানি পশুপালকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনাও ঘটে থাকে। গবেষকদের মতে, জমি ও সম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতা এ সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button