আন্তর্জাতিকঅন্যান্য

আট বছর ধরে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত ২০০ শিম্পাঞ্জি, কারণ কী?

উগান্ডার Kibale National Park-এর Ngogo অঞ্চলের শিম্পাঞ্জিদের নিয়ে দীর্ঘদিনের গবেষণায় দেখা গেছে, এই দলটি একসময় খুব বড় ও একতাবদ্ধ একটি সামাজিক গোষ্ঠী ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে ভেতরের সম্পর্ক দুর্বল হতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তারা দুইটি আলাদা শিবিরে ভাগ হয়ে যায়।

গবেষকদের মতে, এই বিভাজন হঠাৎ হয়নি—বরং কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে। শুরুতে মূলত পুরুষ শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে আধিপত্য, নেতৃত্ব এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকে। একইসঙ্গে খাবার পাওয়া এবং প্রজনন সঙ্গী পাওয়ার বিষয়েও চাপ তৈরি হয়। এসব ছোট ছোট দ্বন্দ্ব একসময় বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়।

২০১৫ সালের পর থেকে এই বিভাজন আরও স্পষ্ট হতে থাকে। ২০১৮ সালের দিকে এসে দুই পক্ষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক প্রায় পুরোপুরি ভেঙে যায়—এক দল আরেক দলের সাথে যোগাযোগ, মেলামেশা বা একসাথে চলাফেরা প্রায় বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে অনেক ক্ষেত্রেই সীমান্তের মতো এলাকা ধরে টহল দেওয়া এবং অপর পক্ষকে আক্রমণ করার ঘটনা দেখা যায়।

কিছু পর্যবেক্ষণে এমনও পাওয়া গেছে যে এই সংঘর্ষ শুধু তাড়িয়ে দেওয়া বা হুমকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং মাঝে মাঝে গুরুতর সহিংসতা ঘটেছে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক শিম্পাঞ্জি এবং কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের ওপরও হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

তবে বিজ্ঞানীরা এটাকে মানুষের যুদ্ধের মতো “গৃহযুদ্ধ” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন না। তাদের মতে, এটি মূলত শিম্পাঞ্জিদের স্বাভাবিক সামাজিক আচরণের চরম রূপ—যেখানে ছোট দলে বিভক্ত হয়ে নিজেদের এলাকা, খাদ্য ও প্রজনন সুযোগ রক্ষা করার প্রবণতা কাজ করে।

সবশেষে গবেষণার বড় গুরুত্ব হলো—এ ধরনের ঘটনা দেখায় যে মানুষের মতো প্রাণীদের মধ্যেও সামাজিক বিভাজন, প্রতিযোগিতা এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব খুব শক্তিশালীভাবে কাজ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে গোষ্ঠীর আচরণ বদলে দিতে পারে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button