বাংলাদেশ

একসঙ্গে মৃত্যু ৪ ভাইয়ের, জানাজা পড়ালেন বেঁচে থাকা ভাই

বাংলা টিভি ডেস্ক: ওমানে এসির বিষাক্ত গ্যাসে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের চার ভাইকে নিজ গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বুধবার সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা-র হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। হৃদয়স্পর্শী সেই জানাজায় ইমামতি করেন পরিবারের বেঁচে থাকা একমাত্র ভাই এনামুল হক।

স্বপ্ন ছিল প্রবাসজীবনের আয় দিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর। সেই স্বপ্ন নিয়েই একে একে পাঁচ ভাইয়ের চারজন ওমানে পাড়ি জমান। দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে তারা সেখানে গাড়ি ওয়াশিংয়ের ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একইসঙ্গে প্রাণ হারান চার ভাই। দেশে ফিরলেন তারা, তবে জীবিত নয়—নিথর দেহ হয়ে।

মঙ্গলবার রাতে বিশেষ ফ্লাইটে তাদের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছায়। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

ভোর থেকেই বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের অসংখ্য মানুষ। পাশাপাশি রাখা চারটি লাশবাহী খাটিয়া ঘিরে শোকের মাতম নেমে আসে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন, আবার কেউ হতবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন একই পরিবারের চার ভাইয়ের এমন করুণ পরিণতির দিকে।

জানাজার আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এনামুল হক। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি উপস্থিত সবার কাছে বলেন, “আমার ভাইদের আপনারা ক্ষমা করে দিয়েন।” পরে সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি চার ভাইকে দাফন করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১২ বছর আগে পরিবারের এক ভাই প্রথম ওমানে যান। পরে অন্য ভাইদেরও সেখানে নিয়ে যান এবং সবাই মিলে ব্যবসা শুরু করেন। কয়েক বছর আগে দেশে জমি কিনে নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজও শুরু করেছিলেন তারা। নিহতদের মধ্যে দুই ভাই সম্প্রতি বিয়ে করেছিলেন, যার একজন মাত্র কয়েক মাস আগে ওমানে গিয়েছিলেন।

মো. নাজমুল হাসান জানান, মরদেহ দেশে পৌঁছানোর আগেই জানাজা ও দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক নিহত প্রবাসীর পরিবার তিন লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে বলেও তিনি জানান।

জানা গেছে, ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় কেনাকাটা শেষে চার ভাই একটি ক্লিনিকের সামনে গাড়ির ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button