আন্তর্জাতিকইন্ডিয়া

তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য বিচারপতির, ক্ষোভে যুবক বানালো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে এক ব্যতিক্রমী ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। একটি সাধারণ রসিকতা থেকে শুরু হওয়া এই ডিজিটাল উদ্যোগ এখন লাখো তরুণের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সূর্য কান্ত-এর একটি মন্তব্যকে ঘিরে, যেখানে তিনি আদালতের এক শুনানিতে কিছু তরুণকে “তেলাপোকা” ও “পরজীবী”র সঙ্গে তুলনা করেন বলে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যদিও পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে মন্তব্যটি মূলত ভুয়া ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে ছিল, তবুও তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ কমেনি।

এই প্রেক্ষাপটে অভিজিৎ দিপকে নামের এক তরুণ এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেন, যেখান থেকে জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। পরে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল ব্যবহার করে এর ইশতেহার ও অনলাইন উপস্থিতি তৈরি করেন।

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই ডিজিটাল আন্দোলন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সামাজিক মাধ্যমে কয়েক মিলিয়ন অনুসারী যুক্ত হয় এবং লক্ষাধিক মানুষ অনলাইন ফর্মের মাধ্যমে এতে যোগ দেয় বলে দাবি করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র এবং সাবেক সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদ-এর মতো কিছু পরিচিত ব্যক্তিও এতে যুক্ত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আন্দোলনের সমর্থকদের মতে, এটি মূলত বর্তমান বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক অসন্তোষের বিরুদ্ধে তরুণদের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ। কেউ কেউ এটিকে ভারতের প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের ডিজিটাল রাজনৈতিক অভিব্যক্তি হিসেবে দেখছেন।

তবে সমালোচকদের মতে, এটি মূলত অনলাইন হাইপ এবং বাস্তব রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেয়ে বেশি প্রতীকী ও বিনোদনমূলক আন্দোলন। তবুও এই ঘটনা দেখাচ্ছে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন রাজনৈতিক মতপ্রকাশের একটি শক্তিশালী ও দ্রুত বিস্তৃত মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button