
বাংলা টিভি ডেস্ক: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করতে হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের কালাইনজুড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহমেদ জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় কারাবন্দি থাকাকালে তার অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কফিল উদ্দিন। সম্প্রতি কারামুক্ত হওয়ার পর আদালতের আদেশে ফরিদ আহমেদ চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল হন। তবে দায়িত্ব হস্তান্তর ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
সোমবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলে তা নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ও প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হকসহ চার পুলিশ সদস্যও আহত হন। পুলিশ সূত্র জানায়, সংঘর্ষ থামাতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি পাঁচটি সাউন্ড গ্রেনেড ও তিন রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়।
এ বিষয়ে ওসি শেখ নাজমুল হক বলেন, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও কর্তৃত্বকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



