Uncategorized

সিঙ্গাপুর জিমন্যাস্টিকসে কোয়ান্টাম শিক্ষার্থীদের বাজিমাত

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ২১তম জুনিয়র ও সিনিয়র ওপেন আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ বাংলাদেশের জিমন্যাস্টরা ৯টি পদক অর্জন করেছেন। এর মধ্যে ব্যক্তিগত ইভেন্টে ৭টি এবং দলগত ইভেন্টে ২টি পদক রয়েছে। বাংলাদেশের অর্জিত ব্যক্তিগত সাতটি পদকের সবকটিই এসেছে বান্দরবানের লামায় অবস্থিত কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে।

গত ৩ থেকে ৭ জুন সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ৩টি স্বর্ণ, ২টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৭টি ব্যক্তিগত পদক অর্জন করে। এছাড়া জুনিয়র ও সিনিয়র বিভাগে দলগত দুটি ব্রোঞ্জ পদকও জেতে বাংলাদেশ। দলগত পদক অর্জনকারী সদস্যদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিলেন কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী।

WhatsApp Image 2026 06 08 at 6.50.38 PM 1

প্রতিযোগিতার জুনিয়র বিভাগে উটিংওয়াং মার্মা একাই দুটি স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতে আলোচনায় আসেন। তিনি ভোল্টিং টেবিল ইভেন্টে ১৩.৫০০ পয়েন্ট পেয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। একইসঙ্গে স্টিল রিংস ইভেন্টে ১২.১৫০ পয়েন্ট নিয়ে আরও একটি স্বর্ণ এবং ফ্লোর এক্সারসাইজ ইভেন্টে ১১.৬০০ পয়েন্ট পেয়ে ব্রোঞ্জপদক লাভ করেন।

জুনিয়র বিভাগের আরেক প্রতিভাবান জিমন্যাস্ট মেনটন টনি ম্রো পমেল হর্স ইভেন্টে ১৩.১৫০ পয়েন্ট পেয়ে স্বর্ণপদক জিতেছেন। সিঙ্গাপুর ওপেন আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে এই ইভেন্টে বাংলাদেশের অর্জিত এটিই সর্বোচ্চ স্কোর।

এদিকে মংচিং প্রু ত্রিপুরা জুনিয়র বিভাগের হরাইজন্টাল বার ইভেন্টে ১১.৭০০ পয়েন্ট নিয়ে রৌপ্য পদক অর্জন করেন। সিনিয়র বিভাগে রাজীব চাকমা ভোল্টিং টেবিল ইভেন্টে ১২.৭০০ পয়েন্ট পেয়ে রৌপ্য এবং উহাইমং মার্মা হরাইজন্টাল বার ইভেন্টে ১২.১৫০ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন।

দলগত বিভাগেও কোয়ান্টাম শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। জুনিয়র দলের ব্রোঞ্জজয়ী সদস্যরা হলেন উটিংওয়াং মার্মা, মেনটন টনি ম্রো, মংচিং প্রু ত্রিপুরা ও প্রেনথৈ ম্রো। সিনিয়র দলের ব্রোঞ্জজয়ী সদস্যদের মধ্যে ছিলেন রাজীব চাকমা ও উহাইমং মার্মা।

WhatsApp Image 2026 06 08 at 6.50.38 PM 2

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের শিক্ষাসেবা কার্যক্রমের ইনচার্জ ছালেহ আহমেদ জানান, বাংলাদেশ দলের এবারের সাফল্যের পেছনে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের জিমন্যাস্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সহযোগিতায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে এসব শিক্ষার্থীকে শিক্ষা, খাদ্য, চিকিৎসা এবং আন্তর্জাতিক মানের জিমন্যাস্টিকস প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে। সঠিক প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা পেলে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুরাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জন করতে পারে—এবারের ফলাফল তারই প্রমাণ।

বাংলাদেশের জিমন্যাস্টিকসে এই সাফল্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন কৃতিত্ব দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

ওএফ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button