বাংলাদেশের মানুষের একটু স্বভাব খারাপ: শাওন

বিনোদন ডেস্ক: নুহাশপল্লীতে সর্বসাধারণের জন্য লাইব্রেরি স্থাপনের পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে জানিয়েছেন কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সহধর্মিণী মেহের আফরোজ শাওন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য লাইব্রেরি উন্মুক্ত করার চেষ্টা করা হলেও অনেকেই বই নিয়ে আর ফেরত দেননি।
রোববার হুমায়ূন আহমেদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শাওন বলেন, নুহাশপল্লীতে এখনো সবার জন্য উন্মুক্ত কোনো লাইব্রেরি করা হয়নি। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বই ফেরত না দেওয়ার কারণে সেই পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে আসতে হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হুমায়ূন আহমেদের প্রকৃত ভক্তরা তার বই নিজেরাই সংগ্রহ করবেন।
হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী আয়োজন প্রসঙ্গে শাওন বলেন, গত ১৪ বছর ধরে নুহাশপল্লীর কর্মীরাই এসব আয়োজন করে আসছেন। সরকার বা রাষ্ট্রের কাছে তার কোনো প্রত্যাশা নেই। নুহাশপল্লীর কর্মী, ভক্ত ও সন্তানরা যতদিন থাকবেন, ততদিন তারাই হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করে যাবেন।
এদিকে জনপ্রিয় এই কথাসাহিত্যিকের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার সকাল থেকেই গাজীপুরের পিরুজালী এলাকায় অবস্থিত নুহাশপল্লীর লিচুতলায় ভক্ত, কবি, লেখক ও নাট্যাঙ্গনের মানুষজন জড়ো হন। তারা ফুল দিয়ে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।
ভক্তরা বলেন, হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যকে অসংখ্য জনপ্রিয় ও কালজয়ী সৃষ্টি উপহার দিয়েছেন। বাংলা ভাষা যতদিন থাকবে, ততদিন তিনি পাঠকের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। তারা জানান, নুহাশপল্লীতে একটি লাইব্রেরি হলে সেখানে তার বই পড়া ও স্মৃতিচারণের সুযোগ তৈরি হতো।
নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে আশপাশের কয়েকটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও কবর জিয়ারতের আয়োজন করা হয়। এতে হুমায়ূন আহমেদের দুই সন্তান নিষাদ ও নিনিত, স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, পরিবারের সদস্য, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।



